সমালোচনা গায়ে মাখছেন না মোদী

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ১১:১৭
 
ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতকে বিশ্বের দরবারে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এখনো সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য কৃতিত্বের সাথে সাথে সমালোচনাও কম মিলছে না তার। বিরোধী দল ছাড়াও রাজনৈতিক সমালোচকরা বলা শুরু করেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশে থাকার চেয়ে বিদেশে থাকতেই বেশি পছন্দ করছেন। এই বিদেশ সফরের ‘নেশা’ ভারতের জন্য ভালো হবে না। তবে এ ধরনের সমালোচনা গায়ে না মেখে এবার বিশ্বের অন্যতম তিন প্রভাবশালী দেশ সফরে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি।  দেশগুলো হচ্ছে  ফ্রান্স, জার্মানি ও কানাডা।
 
নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বের এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি। কিন্তু পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে একদিকে যেমন তার অতিসক্রিয়তা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আন্তর্জাতিক মহলের, তেমনই বেশ কিছু ‘আউট অব দ্য বক্স’ পদক্ষেপেরও সাক্ষী থেকেছে দশ মাসের কূটনৈতিক ক্যালেন্ডার। নরেন্দ্র মোদীর এবারের সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ফ্রান্স, জার্মানি এবং কানাডা তিনটি শিল্পোন্নত দেশেই তার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির প্রসার ঘটানো। পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্করের মতে, এই ত্রিদেশীয় সফরের একটি সাধারণ যোগসূত্র হল, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে মজবুত করা। তিনটি রাষ্ট্রই শিল্পোন্নত এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। ভারতের সঙ্গে বৃহত্তর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্যও রয়েছে। এছাড়া ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত কথা হবে। পাশাপাশি বিদ্যুত্ ক্ষেত্রে সমঝোতা, পর্যটন, স্মার্ট সিটি প্রকল্পের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।
 
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক নিবন্ধে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদীর এই সফরে তিন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ হবে। ফ্রান্স প্রথম পশ্চিমা শক্তি যারা ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এখন দেশটি ভারতের উচ্চ প্রযুক্তি খাতের টার্বোচার্জার হতে পারে। জার্মানি হলো পশ্চিমের অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস। আর কানাডা ও ভারত হলো কলোনিয়াল কাজিনস। এছাড়া কানাডা ভারতীয় প্রবাসীদের অন্যতম ঠিকানাও।
 
ক্ষমতায় আসার পর থেকে গোছালো পররাষ্ট্রনীতির ছক এঁকে এগোচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপস্থিতির পর দুই দেশের সম্পর্কে গতি ফিরেছে। এর ফাঁকে নরেন্দ্র মোদী আগামী মাসে বেইজিং সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একইসঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন মোদী। তিনি তার ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ অনুযায়ী জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও অস্ট্রেলিয়ার মতো আঞ্চলিক পাওয়ারগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিককালে সিসিলি, মরিশাস ও শ্রীলঙ্কায় সফল সাগর যাত্রা শেষ করেছেন তিনি। বিশ্বের কোনো কোণেই সম্পর্কের ঘাটতি রাখছেন না মোদী। ওই মন্তব্যে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদীর ইউরোপ ও কানাডা সফরের মধ্য দিয়ে ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে কিছু ভারসাম্য আনার সুযোগ হবে। এ বছরের শেষদিকে ভারত আফ্রিকা সম্মেলনের আয়োজক হতে চলেছে।
 
বর্তমান প্রেক্ষিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিকল্প নেই। এ রকম তিনটি দেশ সফরের পথে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিন দেশই পশ্চিমের মিডল পাওয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও এসব দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রয়েছে এবং প্রায় তারা নিজস্ব নীতিতে চলে থাকে। স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি এবং ভারতের অথনৈতিক বিশ্বায়ন পশ্চিমা মিডল পাওয়ারদের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে বিগত দশ বছরে ইউপিএ জোট সরকার তা কাজে লাগাতে সক্ষম হয়নি।
 
নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেয়ার পর এসব দেশ সফরের সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে তিনি বন্ধু দেশকে কতটা গুরুত্ব দেন। তবে জার্মানি ও ফ্রান্সের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো গত এক দশকে দুই দেশের সঙ্গে ভারতের উচ্চ পর্যায়ের কোনো আলাপ-আলোচনার অভাব। অন্যদিকে, কানাডার ক্ষেত্রেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। অথচ শিল্পোন্নত তিনটি দেশ ভারতের নতুন কিছু জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে বড় অবদান রাখতে পারে। নরেন্দ্র মোদী সেই বিষয়টি অনুভব করেছেন। তার এই সফরে হয়তো সেই সুযোগ উন্মোচনেরই চেষ্টা করবেন তিনি।