যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের বাল্টিমোর শহরে পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক ফ্রেডি গ্রে’র (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে হামলা থেকে শুরু করে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার।
পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন গত মাসে ফ্রেডি গ্রে’র মৃত্যুর পর বাল্টিমোর শহরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সদস্যের গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাল্টিমোরের পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বাল্টিমোরের স্টেট অ্যাটর্নি (সরকারি কৌঁসুলি) ম্যারিলিন মসবি এক সংবাদ সম্মেলনে ছয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘোষণার পর সেখানকার মানুষেরা উল্লাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী পুলিশ ভ্যানের ভেতর হাতকড়া পরানো গ্রে মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়ে মারা গেছেন।
স্টেট অ্যাটর্নি মেরিলিন মসবি বলেন, ফ্রেডি গ্রে’কে আটক করার ঘটনা ছিল অবৈধ এবং এই হত্যাকাণ্ড নরহত্যার শামিল। তিনি বলেন, পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় মেরুদণ্ডে আঘাতজণিত কারণে তিনি মারা গেছেন। এসময় তাকে সিটবেল্ট দিয়েও বাঁধা হয়নি। তিনি বলেন, গ্রেফতার ঘাড়ে গুরুতর চোট পেয়েছেন। পুলিশ ভ্যানের ভেতরে তাকে হাতকড়া ও পায়ে শেকল পরানোর কারণেই তিনি এই আঘাত পেয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে হামলা থেকে শুরু করে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার। ভ্যান চালকের দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হামলা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ। সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা আসার পর বিক্ষোভকারীরা আনন্দে চিত্কার করে উঠেন।
ম্যারিলিন মসবি এসময় বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়ার স্বার্থেই সবাইকে শান্ত হতে হবে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন লেফটেন্যান্ট এবং একজন সার্জেন্ট। মামলা দায়েরের পর পরই তাদের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। এর আগে কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃত্যুর পর তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এদিকে পুলিশের ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে, তারা যথাযথভাবেই তাদের কাজ করেছেন। উল্লেখ্য, পুলিশের সহিংসতার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব-উপকূলীয় নিউইয়র্ক শহর থেকে শুরু করে মধ্যাঞ্চলীয় ডেনভার পর্যন্ত বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত এসব বিক্ষোভের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি বর্ণবাদী সহিংসতা কবলিত বাল্টিমোর শহরে হয়েছে। শহরটিতে দুদিন ধরে দাঙ্গা চলার পর বুধবার কোনো সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শেষ হয়েছে।