নাইজেরিয়ার সন্ত্রাসীগোষ্ঠী বোকো হারামের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দিলেন সেখান থেকে উদ্ধার পাওয়া কয়েকশ নারী ও শিশু।
সরকারি শরণার্থি শিবিরে তারা আশ্রয় নিয়েছেন। রবিবার প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে জঙ্গিগোষ্ঠীর নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেন।
তারা বলেন, আমাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের সামনেই পরিবারের পুরুষ ও কিশোর ছেলেদের হত্যা করা হয়।
সেসিলিয়া অ্যাবেল নামের এক নারীর সামনেই তার স্বামী ও বড় ছেলেকে খুন করা হয়, বাকী আট সন্তানসহ তাকে ধরে নিয়ে যায়।
অনেকে জানিয়েছেন, আমাদের মধ্যে অনেককেই তাদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। দিনে মাত্র একবার খাবার দেয়া হত।
আসাবী উমারা নামে একজন জানিয়েছেন, এক মুহূর্তের জন্য তাদের নড়তে দিত না জঙ্গিরা, সবাইকে এক জায়গায় একসঙ্গে বেঁধে রাখত।প্রাকৃতিক কাজ সারার সময়ও চোখের আড়াল হতে দিত না। গবাদিপশু খায় এমন শুকনো ভূট্টার দানা খাবার হিসেবে দেয়া হতো, এসব খাবার হমজ করতে না পেরে অনেকে মারা যায়।
গত এক সপ্তাহে নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল সামবিসায় অভিযান চালিয়ে বন্দী প্রায় ৭শ নারী ও শিশুকে উদ্ধার করেছে নাইজেরীয় সেনাবাহিনী। উদ্ধার পাওয়া প্রায় সবাই নির্যাতনের একই ধরনের চিত্র তুলে ধরেছেন।
উদ্ধার হওয়া এসব নারী ও শিশুদের পিকআপে করে ইয়োলা শহরে এনে একটি অস্থায়ী সরকারি শিবিরে রাখা হয়েছে। এদের বেশিরভাগকেই গত বছর গুমসুরি গ্রাম থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্রোহ শুরু করে বোকো হারাম।
