সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আলেপ্পোতে সরকারী ও বিদ্রোহী বাহিনী প্রতিদিন যুদ্ধাপরাধ করছেন বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটির বেসামরিক জনগণ ‘অকল্পনীয় নৃশংসতা’র মধ্যে দিন যাপন করছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলার কথা জানা গেছে। মানবাধিকার সংস্থাটি প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে হাসপাতাল, মসজিদ ও স্কুলে ব্যারেল বোমা হামলার অভিযোগ এনেছে। একইভাবে রাসায়নিক গ্যাস ভর্তি রকেট হামলা চালিয়ে বিদ্রোহীরাও যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি।
উভয়পক্ষের এমন নৃশংসতা আলেপ্পোর বেসামরিক জনগণের জীবনকে ‘অচিন্তনীয় নৃশংসতার’ মধ্যে ফেলেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, অ্যামনেস্টির ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিরিয়া সঙ্কট সমাধানে আবারো কিছুটা তত্পর হয়েছে জাতিসংঘ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে বিবিসি।
উল্লেখ্য, জেনেভা-১ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১২ সালের জুনে। সেখানে যে চুক্তির পরিকাঠামো গৃহীত হয়েছিল তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জেনেভা-২ সম্মেলন কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
জাতিসংঘ দূত স্টাফান ডি মিস্টুরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া আলোচনা শেষ হতে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ সময় লাগবে। এদিকে, আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিরিয়ার বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গ্রুপ। ওই বৈঠকে ইরানকে আমন্ত্রণ করার বিষয়টি তারা ভালোভাবে নেয়নি। এজন্য কোনো কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী জাতিসংঘ দূত মিস্টুরাকে সিরিয়া সরকারের ‘দালাল’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
২০১১ সালে মার্চ থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় এ পর্যন্ত দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া গৃহহীন হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। সূত্র: আল জাজিরা ও বিবিসি
