যুক্তরাজ্যবাসী একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট পাচ্ছে

আপডেট : ০৭ মে ২০১৫, ২৩:৩৩

ব্রিটেনে সত্তর দশকের পর এবারের জাতীয় নির্বাচন সবচেয়ে আগ্রহ উদ্দীপক এবং কৌতুহলপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা। আজ লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। এরপর গণনা শুরু হবে। ফলাফল চূড়ান্ত হবে শুক্রবার বিকাল নাগাদ।

ব্রিটেনে ৬৫০ নির্বাচনী আসনে এ বছর ৫০ মিলিয়ন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। যা গত জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। ইতোমধ্যে ডাকযোগে ভোট প্রদান শেষ হয়েছে।
নির্বাচনী  টাইমলাইন ঘোষণার পূর্ব থেকে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন সংস্থা জরিপ শুরু করে। গত ১০০ দিনের নির্বাচনী কাউন্টডাউনে প্রতি জাতীয় সংবাদ পত্র, থিংকট্যাঙ্ক, বিশেষজ্ঞ সংস্থা নির্বাচনী জরিপের ফলাফল লাগাতারভাবে প্রকাশ করতে থাকে। এতে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল যথাক্রমে লেবার পার্টি এবং কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থনের ব্যারোমিটার প্রতি মূহুর্তে উঠা-নামা চলতে থাকে। সর্বশেষ আজ স্থানীয় সময় বিকেলে ৩৫ টি সংস্থা একত্রে চূড়ান্ত ফলাফল  প্রকাশ করেছে। এতে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যে, শুক্রবার নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যবাসী আগামী ৫ বছরের জন্য একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট পাচ্ছে।
অবশ্য, প্রভাবশালী  সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ও আইসিএম যৌথভাবে পরিচালিত জরিপে লেবার পার্টিকে ১ শতাংশ ভোটে এগিয়ে দেখানো হয়েছে। তবে এ জরিপেও ঝুলন্ত পার্লামেন্টের কথা নিশ্চিত করা হয়। তাদের জরিপ বলছে, লেবার পার্টির সঙ্গে কোয়ালিশন হবে। তবে কার সঙ্গে এই কোয়ালিশন হতে পারে তা নিশ্চিত  করা হয়নি। বলা হয়েছে- লেবার পার্টি ২৭৩ আসনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এর পাশাপাশি কনজারভেটিভও ২৭৩ আসন পাবে। এরপর স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী দল এসএনপি ৫২, লিবডেম ২৭ এবং অন্যান্য মিলে ২১ আসনে বিজয়ী হচ্ছে। এর বাইরে কট্টরপন্থি ইউকিপ ৩টি ও গ্রিন পার্টি ১টি। বলা হয়েছে  ১ শতাংশ ভোটে লেবার দল চূড়ান্ত ফলাফলে এগিয়ে থাকায় কৌশলগত কারণে তাদের সঙ্গেই  জোট হবে অথবা মাইনরিটি সরকার গঠন হবে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩২৬ আসন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে দুটি বড় দলের সঙ্গে অপর যে কোন একটি দল জোট বাধলে সরকার গঠন সম্ভব নয়। ফলে প্রয়োজন হবে বড় দুটি দলের ইশতেহারের সঙ্গে ছোট দলগুলির ঐক্যমত। এক্ষেত্রে লেবারের সঙ্গে একাধিক ছোট দলের সাথে ঐক্য হতে পারে।
এ অবস্থায় ব্রিটেনের আজকের নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা গঠনের পর নতুন সরকারকে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে তারা মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন সত্তর দশকের পর থেকে ব্রিটেনে এতটা কঠিন পরিস্থিতিকে সামনে রেখে অন্যকোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

আজকের ভোট শেষে কাল থেকে ব্রিটেন নতুন কোন জটিল পরিস্থির মুখোমুখি হতে পারে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন- ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার পাশাপাশি মাইনরিটি সরকার গঠন করতে পারে লেবার বা কনজারভেটিভ। আবার কোন পর্যবেক্ষক বলছেন জটিলতা এমনও হতে পারে যে এবছরের শেষের দিকে আবার নির্বাচন হতে পারে।