আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে সময় দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং ভারতের উন্নয়নের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, সিঙ্গাপুরের জনগণ তাদের নেতা লিকুয়ানকে ২৫ বছর সময় দিয়েছিল বলেই সিঙ্গাপুর আজ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ার জনগণ মাহাথির মোহাম্মদকে ২২ বছর এবং ভারতের জনগণ কংগ্রেসকে ৩০ বছর সময় দিয়েছিল বলেই ওই রাষ্ট্রগুলো আজ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তেমনিভাবে শেখ হাসিনাকে সময় দিলে বাংলাদেশ আগামীতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার শহীদ খোকনপার্কে অনুষ্ঠিত বগুড়া জেলা, জেলা ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সন্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতের রাজ্যসভায় সীমান্ত বিল পাস হওয়ার বিষয়টি বর্তমান সরকারের সাফল্য হিসেবে অভিহিত করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৬২ বছরে যে সমস্যার সমাধান কেউ করতে পারেনি, বর্তমান সরকার তা করেছে। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কয়েক দশকের পুরনো সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু এর সমাধানে কাজও করেছেন।
২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০১৯ সালের নির্বাচন যদি বর্জন করেন তাহলে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। একই সাথে তিনি খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হুমকি দিবেন না। হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। এছাড়া আপনার সামনে আর বিকল্প কিছু নেই।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল রাজি জুয়েলের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, আব্দুর মান্নান এমপি, আলহাজ্ব হাবিবর রহমান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাশরাফি হিরো প্রমুখ।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় মোহাম্মদ নাসিম নিজ নির্বাচনী এলাকা কাজীপুরের চরকাদহ গ্রামে প্রায় তিনশ’ বসতবাড়িতে বিদ্যুত্ সংযোগের উদ্বোধন করেন।