নরসিংদীতে প্রেম প্রত্যাখানে কলেজ ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ০৮ মে ২০১৫, ১৯:২৪
অসম প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় আল-আমিন নামে এক আখের রস বিক্রেতা, দীপা (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রীকে দা দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। 
 বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেলাব উপজেলার বাজনাব সৈয়দপাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। 
 
জানা গেছে, একই উপজেলার একই গ্রামের সৈয়দ সামসুজ্জামানের ছোট কন্যা সৈয়দা রিনভি আক্তার  দীপা মনোহরদী উপজেলার পাঁচকান্দী ডিগ্রী কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে পাশ করে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার জন্যে টাংগাইল ইউসিসিতে কোচিং নিচ্ছিল। এই কৃতি ছাত্রী দীপার প্রতি দুর্বল ছিল পার্শ্ববতী কাজীরটেক গ্রামের মিয়ার উদ্দিনের পুত্র আখের রস বিক্রেতা হকার আল-আমিন। সে একতরফাভাবে দীপাকে ভালবাসতো। 
 
কিছুদিন পূর্বে দীপাকে ভার্সিটি পড়ুয়া এক ছাত্রের সাথে কথা বলতে দেখে রাগান্বিত হয়ে দীপার কাছে আল-আমিন তার প্রেমের কথা ব্যক্ত করে। এতে দীপা রাগান্বিত হয়ে তাকে এই বলে ভৎর্সনা করে যে, আল-আমিন একজন অশিক্ষিত আখের রস বিক্রেতা এবং দীপা একজন কলেজ ছাত্রী। হকার ও কলেজ ছাত্রীর মধ্যে প্রেম হতে পারে না। এতে আল-আমিন তার প্রতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। 
 
বৃহস্পতিবার বিকেলে দীপা তার বান্ধবী সানজিদা আক্তার অমিকে সাথে নিয়ে গ্রামের খানবাড়ীর রাস্তায় হাঁটতে বের হয়। এসময় হকার আল-আমিন পিছনদিক থেকে দা দিয়ে দীপাকে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। বান্ধবী অমির চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তারা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে বেলাব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে রাত ৯ টায় তার মৃত্যু ঘটে। 
 
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসী আল-আমিনকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। 
 
দীপার পিতা সৈয়দ সামসুজ্জামান জানিয়েছেন, দীপা খুব মেধাবী ছাত্রী ছিল। সে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছিল। 
নিহতের মা ফরিদা বেগম উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তার মেয়ের  মৃত্যুর জন্য দায়ী আল-আমিনের শাস্তি দাবি করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। 
 
বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বখাটে আল-আমিনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দীপার বড় ভাই আতিকুজ্জামান বাদী হয়ে ঘাতক আল-আমিনকে আসামি করে বেলাব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।  
শুক্রবার বিকেলে নিহত দীপার লাশ তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে এলে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। শত শত লোক দীপাদের বাড়িতে ভীড় জমায়। আছরের নামাজের পর গ্রামের গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।