সব হিসাব নিকাশ উল্টে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি আশাতীত সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেলেন ডেভিড ক্যামেরন।
অপরদিকে লেবার পার্টির ভরাডুবির দায় স্বীকার করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন এড মিলিব্যান্ড। তিনি এক আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, 'আজকের দলের এই মহাবিপর্যায়ের সম্পূর্ণ দায় আমার। আমি অত্যন্ত দুঃখিত। দলের এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।'
এছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেট দলের মারাত্মক বিপর্যয়ের পর দলের প্রধান নিক ক্লেগ এবং ইউকিপ'র প্রধান নাইজেল ফারাজে নিজ আসনে হেরে গিয়ে দল থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
লেবার দলের ব্যাপক ভরাডুবির মধ্যেও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তিন নারীর বিজয়ে আনন্দের ঢেউ লেগেছে যুক্তরাজ্যে বাঙালি কমিউনিটিতে। বিজয়ীরা হলেন রুশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও ড. রুপা আশা হক। এবারের নির্বাচনে ১১ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি পদের জন্য লড়েছিলেন। এরমধ্যে লেবার পার্টি থেকে সাতজন, লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি থেকে তিনজন এবং কনজারভেটিভ পার্টি থেকে একজন মনোনয়ন পেয়েছিলেন। বিজয়ী তিনজনের জয়ের ব্যাপারে জরিপ সংস্থাগুলো পূর্বাভাস দিয়েছিল।
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জন্ম নেয়া রুশনারা আলী ২০১০ সালে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন- বো সংসদীয় আসন থেকে লেবার পার্টি থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। এবারও একই দল ও আসন থেকে বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বার জয়ী হয়েছেন তিনি। প্রায় ৮০ হাজার ভোটারের এই আসনে তিনি এবার পেয়েছেন ৩২ হাজার ৩৮৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের ম্যাথু স্মিথ পেয়েছেন ৮ হাজার ৭০ ভোট। এর আগের বারও তিনি ১১ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন। চল্লিশ বছর বয়সী রুশনারা গত মেয়াদে পার্লামেন্টে বিরোধী দলের শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়া মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাক প্রশ্নে লেবার পার্টি সমর্থন দেয়ায় এই পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি পার্লামেন্টারি ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন-রাজনীতি-অর্থনীতিতে উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এই নির্বাচনে বাংলাদেশী কমিউনিটিসহ মূলধারার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্রী টিউলিপ জয়ী হয়েছেন লন্ডনের অভিজাত এলাকা হ্যাম্পস্টেড-কিলবার্ন আসন থেকে। আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৮০ হাজার।ভোট পড়েছে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। তিনি পেয়েছেন ২৩ হাজার ৯৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ২২ হাজার ৮৩৯ ভোট। ব্রিটেনে এই আসনটিকে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এখানে থাকেন। শুক্রবার কিংসগেট কমিউনিটি সেন্টার পোলিং স্টেশন থেকে সিএনএন'র সিনিয়র ইন্টারন্যাশনাল করেসপন্ডেন্ট নিক রবার্টসন ইত্তেফাককে বললেন তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে তিনি অবগত। সে সূত্রেই টিউলিপকে জানেন।
উল্লেখ্য টিউলিপ ২০১০ সালে একই এলাকা থেকে স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
লন্ডনের অন্যতম আলোচিত আসন ইলিং সেন্ট্রাল-অ্যাকটন থেকে ড. রুপা হক লেবার পার্টি থেকে বিজয়ী হয়েছেন। গত বার এই আসনটিতে কনজারভেটিভ প্রার্থী জয়ী হন। লেবার পার্টি কঠিন সঙ্কটের মধ্যেও এবার রুপা হক তা পুনরুদ্ধার করলেন। তিনি ২২ হাজার ২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন ২১ হাজার ৭২৮ ভোট। রুপা হক ১৯৭২ সালে লন্ডনের ইলিংয়ে এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী যুক্তরাজ্যে মোট ৬৫০ আসনের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টি ৩৩১ আসনে বিজয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে যেখানে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৩২৬ টি আসন। ফলে এককভাবে সরকার গঠন করতে আর কোন সমস্যা থাকল না দলটির।
অপরদিকে লেবার পার্টি গত বারের চেয়ে ২৬ টি আসন কম পেয়ে ২৩২ টি আসন পেয়েছে।
