চট্টগ্রাম মহানগরীর মূল সমস্যা হলো জলাবদ্ধতা। বছরের বিরাট সময় ধরে বৃষ্টি ও অতি বৃষ্টিতে নগরীর ব্যাপক এলাকা জলাবদ্ধতায় পতিত হয়। এর ফলে নগরবাসীর অধিকাংশকেই কম-বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পাহাড়, সমুদ্র, নদী ও সমতল ভূমির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এর সমাধানে সরকারিভাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত উপায়ে ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
বর্ষার পানি নদী-নালা, খাল-বিল দিয়ে প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পানি ধরে রাখার মতো জলাধার নির্মাণের জন্য সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যানের অধীনে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে রয়েছে। এর মূল কাজ করা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আবার চট্টগ্রাম ওয়াসা সুপেয় পানি নগরবাসীর নিকট পৌঁছার সামান্য দায়িত্ব পালন করলেও এর পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য কোন স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই। এটিও বাস্তবায়নের দায়িত্ব ওয়াসার। এ সকল ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সমন্বয়কের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণা-বেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে পারে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের মতো কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে অন্তত ৪টি নতুন খাল নির্মাণ। কয়েকটি জলাধার নির্মাণ, পুরাতন খালসমূহের সংস্কার, প্রশস্তকরণ রয়েছে পাহাড়ের পলিমাটি ধারণের জন্য সিলট্র্যাপ নির্মাণ রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর সংযোগ খালের মুখে টাইডল রেগুলেটর নির্মাণও নদীর উভয় তীরে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে। এতে স্থিত খাল-নালাসমূহের ক্যাচমেন্ট এরিয়া ও গতিপথ বিবেচনা করে ১০টি এরিয়ায় বিভক্ত করা হয়েছে। এ বিশাল যজ্ঞ সম্পন্ন করতে সরকারের ব্যাপকভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ দরকার। একইসাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকেও তাদের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
