‘দিল্লি-বেইজিং সম্পর্কে নতুন দিগন্ত খুলবে’

আপডেট : ১৫ মে ২০১৫, ০১:০৭

অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে তিনদিনের সফরে চীন গেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি চীনের প্রাচীন শহর শিয়ানে পৌঁছান। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংর হোমটাউন শিয়ান থেকেই চীন সফর শুরু করছেন মোদী। শিয়ানে মোদীর উপস্থিতি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কারণ এখানে মোদীকে স্বাগত জানিয়ে চীনা সরকার নিজেদের প্রটোকল ভেঙেছেন। ২০১৪ সালে শি’র ভারত সফরের সময়ও মোদীর নিজ রাজ্য গুজরাট দিয়ে সফর শুরু করেছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট। চীনে পৌছে মোদী বলেছেন, তার এই সফর দিল্লি-বেইজিং সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এবার মোদীর সফরেও একই ধরনের আয়োজন করে চীন নিজেদের আন্তরিকতা ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কতোটা গুরুত্ব দিচ্ছে তারা তা তুলে ধরা হল বলে মনে করছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

 
বৃহস্পতিবার মোদী চীনে পৌঁছানোর পর তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অভ্যর্থনা দেয়া হয়। শানশি প্রদেশের রাজধানী শিয়ানে থাকাকালে পুরোটা সময় তাকে সঙ্গ দেনে প্রেসিডেন্ট শি। বেইজিংয়ের বাইরে কোনো বিদেশি অতিথিকে চীনা নেতার সঙ্গ দেওয়াটা এক বিরল ঘটনা।
 
আজ শুক্রবার বেইজিংয়ে চীনা নেতাদের সঙ্গে মোদীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হবে। বেইজিং থেকে চীনের প্রধান বাণিজ্যিক নগরী সাংহাই যাবেন মোদী।  মোদীর এ সফরে দুদেশের মধ্যে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ২০টি বাণিজ্য চুক্তি সই হবে বলে আশা করছে দুপক্ষ।
 
দুদেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বাণিজ্য ঘাটতি গুরুত্ব পাবে বলে এনডিটিভিকে জানিয়েছে কয়েকটি সূত্র। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৮ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াও চীনের উচ্চাভিলাসী সিল্ক রোড প্রকল্প নিয়েও দুদেশের মধ্যে আলোচনা হবে।
 
তবে দুদেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা বিরোধের উত্স সীমান্ত নিয়ে মোদীর এ সফরে বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে চীনের নাগরিকদের জন্য ভারত ই-ভিসার ঘোষণা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোদীর সঙ্গে চীনা নেতাদের বৈঠকে একগুচ্ছ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। আজ বেজিংয়ে একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে মোদীর। আজ সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেবেন তিনি। সফরের শেষ দিনে শনিবার সাংহাইয়ে বৈঠক রয়েছে শিল্পপতিদের সঙ্গে।
 

ভারতে বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে সেই বৈঠক ইতিবাচক ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে শিল্প মহল। এদিকে, চীনের সঙ্গে বেশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক হলে ভারতের ক্ষতি। এমনটাই মনে করে কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কংগ্রেসের পরামর্শ, দেশের বিরুদ্ধে চীনে যেন মুখ না খোলেন নরেন্দ্র মোদী।