অ্যান্টার্কটিকার বরফ ৫ বছরেই অদৃশ্য হবে

আপডেট : ১৮ মে ২০১৫, ০০:৩৭

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আর মাত্র ৫ বছর পরই অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফ প্রাচীর অদৃশ্য হয়ে যাবে। এই বরফ অদৃশ্য হওয়ার অর্থ হচ্ছে সমুদ্রে পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে যা পৃথিবীর জন্য দু:সংবাদ বয়ে আনতে পারে। নাসার এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরে ধীরে বরফের এই প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি। খবর সিএনএন’র।

 
দ্য ন্যাশনাল অ্যারোনটিকস অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) জানিয়েছে, অ্যান্টার্কটিকায় সবচেয়ে বড় এবং বিখ্যাত যে বরফ প্রাচীর রয়েছে সেটা এই দশকের শেষ দিকে অর্থাত্ ২০২০ সালে খন্ডে খন্ডে বিভক্ত হয়ে অদৃশ্য হয়ে যাবে।
 
বরফ প্রাচীর হচ্ছে হিমবাহের বাড়তি অংশ। এগুলো নি:শেষ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো হিমবাহগুলোও দ্রুত নি:শেষ হয়ে যাবে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসেডানায় নাসার জেট প্রপালশন গবেষণাগারে চালানো এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন বিজ্ঞানী আলা খাজেনদার। গবেষণায় দেখা যায়, বরফ প্রাচীর খুব প্রবাহিত হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হচ্ছে। নাসার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে খাজেনদার বলেন, বিজ্ঞানের দিক থেকে এটা ছোট্ট বিষয় হলেও পৃথিবীর জন্য খারাপ খবর। তিনি জানান, ‘বি আইস’ নামের এই বরফ প্রাচীর গত দশ হাজার বছর ধরে বিরাজমান। এই বরফ প্রাচীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে ২০০২ সালে। বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, একটি বরফ প্রাচীর মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানী এরিক হলথাসের মতে, এই ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। নাসার তথ্যানুসারে, অ্যান্টার্কটিকা উপদ্বীপে একটানা গ্রীষ্মকাল বিরাজ করার জন্যই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বরফ প্রাচীর বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে।
 

গবেষকরা জানান, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে ‘বি আইস’ ৪ হাজার ৪৪৫ বর্গমাইল জুড়ে বিস্তৃত ছিল। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বরফ প্রাচীরে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়। ওই সময় এই প্রাচীরের বিস্তার ২ হাজার ৫৭৩ বর্গমাইলে নেমে আসে। এক মাস পর ‘বি আইস’ এর বিস্তার কমে গিয়ে ১ হাজার ৩৩৭ বর্গমাইলে দাঁড়ায়। বর্তমানে এই প্রাচীরের বিস্তার মাত্র ৬১৮ বর্গমাইল জুড়ে। এই আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ছোট্ট রাজ্য রোড আইল্যান্ডের আয়তনের অর্ধেকের চেয়েও কম। অথচ দুই দশক আগে কানেকটিকাট রাজ্যের চেয়ে সামান্য ছোট ছিল এই বরফ প্রাচীর। খাজেনদার জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন কিন্তু থেমে নেই।