ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দাবদাহ গত দুই দিনে নয় জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গত চার দিন ধরে তীব্র দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। আপাতত বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই। বরং তাপদাহ আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করছে আবহাওয়া দপ্তর।
আলিপুর আবহাওয়া অফিস শনিবার সকালে জানায়, কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে যেমন গরম বাড়বে, তেমনি পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপপ্রবাহের সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গরমে শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যে ৮ জনের প্রাণহানি হয়। শনিবার সকালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত দুই দিনে রাজ্যে মোট ৯ জন প্রাণ হারাল।
শনিবার সকালে একটি সেতুর ওপর একটি ট্যাক্সিকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে কাছে গিয়ে দেখে ট্যাক্সির মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে চালক পড়ে রয়েছেন। তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিসৎকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, গরমে সেতুর ওপরই অসুস্থ হয়ে পড়ায় ট্যাক্সি থামিয়ে দেন চালক। পরে গাড়ির ভিতরেই মারা যান তিনি। এই নিয়ে দু'দিনে দুই ট্যাক্সিচালকের মৃত্যু হল।
আবহাওয়া দপ্তর জানায়, রাজ্যে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। গোটা মে মাস জুড়েই এমন অসহনীয় তাপদাহ চলবে।
আবহাওয়া সূত্র জানায়, শুক্রবার কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ শনিবার তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ হবে ৮৩ শতাংশ।
কলকাতার তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত ৪০ ডিগ্রি অতিক্রম না করলেও গত কয়েকদিনে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে৷ শ্রীনিকেতন, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আসানসোল, খড়গপুর, বহরমপুর, বর্ধমানের মতো এলাকায় ইতোমধ্যেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে।
গতকাল শ্রীনিকেতনের তাপমাত্রা ছিল ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আসানসোল ও খড়গপুরে তাপমাত্রা ছিল ৪৩ ডিগ্রির কাছাকাছি। এইসব এলাকায় তাপমাত্রা আরও খানিকটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা আবহাওয়া দফতরের।
দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আর্দ্রতা বাড়লেও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া বা বীরভূমের মতো পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতেও তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লু হাওয়া বয়ে যাবে বলে আগাম সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।
এক আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে যে জলীয়বাষ্প তৈরি হচ্ছে, তা ভূপৃষ্ঠ থেকে বেশি উপরে উঠতে পারছে না৷ ফলে আর্দ্রতা বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গে৷
অন্যদিকে বিহার, উত্তরপ্রদেশ বা ছত্তিশগড় থেকে গরম হাওয়া দ্রুত ঢুকছে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে৷ তাই জঙ্গলমহলের জেলাগুলোতে তাপদাহ দেখা দেবে৷
শুক্রবার থেকে এই অবস্থা শুরু হয়েছে৷ আগামী সাতদিন এমন পরিস্থিতি চলবে৷
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দাবদাহে কলকাতা, হুগলি, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট নয়জন মারা গেছেন।
এর মধ্যে কলকাতায় মারা গেছেন তিনজন। উত্তর ২৪ পরগনায় মারা গেছেন একজন। হুগলি, বর্ধমান ও পশ্চিম মোদিনীপুরে মারা গেছেন বাকি পাঁচজন। খবর বাসস।
