দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী-ডেপুটি গভর্নর দ্বন্দ্বে সমস্যা বাড়ছে সরকারে

আপডেট : ২৪ মে ২০১৫, ০১:১৮

চলতি বছর দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন। আজ রবিবার তার সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে তার সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠছে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং বিরোধী কংগ্রেসসহ অধিকাংশ দল। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

 
কেজরিওয়ালের গত ১০০ দিনের কাজের সফলতা-ব্যর্থতার চেয়ে এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তার সঙ্গে ডেপুটি গভর্নরের দ্বন্দ্ব। ডেপুটি গভর্ণর নজীব জঙ্গ তার কথা শুনছেন না। আর কেজরিওয়াল কর্মকর্তাদের বলছেন, নজীব জঙ্গের নির্দেশ না মানতে। তবে সরকার কিন্তু পক্ষ নিয়েছে ডেপুটি গভর্নরের। গত বৃহস্পতিবার একটি নির্দেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় কেজরিওয়ালকে জানিয়ে দেয়া হয়, ডেপুটি গভর্নরের হাতে কি ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি সরকারের লক্ষণরেখা বেঁধে দেয়ার চেষ্টা করেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কাউকে নিয়োগদানের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা না করেও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ দিতে পারবেন। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশও জারি করতে পারবেন ডেপুটি গভর্নর।
 

কেজরিওয়ালও চুপচাপ বসে নেই। তিনি গতকাল মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক করেছেন এবং আগামী মঙ্গলবার থেকে দুই দিনের জন্য দিল্লি বিধানসভার অধিবেশন ডেকেছেন। তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণে নেমেছেন।  কেজরিওয়াল বলেন, তিনি তার সীমা সম্পর্কে অবগত। চলতি বিতর্ক নিয়ে তিনি সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। কেজরিওয়াল বলেন, নজীব জঙ্গ যেন ভাইসরয়! আর প্রধানমন্ত্রীর দফতর যেন ইংল্যান্ডের রাণী। ভাইসরয়ের মাধ্যমে এখন রাণী দিল্লিকে শাসন করতে চাইছেন। মুখ্যমন্ত্রী এবং ডেপুটি গভর্নরের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে অস্থায়ী মুখ্যসচিব নিয়োগকে কেন্দ্র করে। নজীব জঙ্গ পক্ষ বলছেন, ৪০ ঘন্টা অপেক্ষা করেও রাজ্য সরকার অস্থায়ী মুখ্যসচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ডেপুটি গভর্নরই ওই নিয়োগ দেন। আর কেজরিওয়াল পক্ষ বলছেন, ওই নিয়োগদানের ক্ষমতা ডেপুটি গভর্নরের নেই।