ঢাকা বিভাগে যক্ষা রোগী ৬০ হাজার

আপডেট : ২৬ মে ২০১৫, ২০:১০
 
 
শহরে যক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী (এনটিপি) তথ্য অনুযায়ি ২০১৪ সালে ১ লাখ ৮০ হাজার যক্ষ্মারোগীর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই রয়েছেন ৬০ হাজার। সেই হিসেবে শহরের যক্ষারোগীদের ওপর বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।       
 
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘নগরে যক্ষা বিষয়ক সাংবাদিক ওরিয়েন্টশনে’ বক্তারা এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি), বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক যৌথভাবে এ ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করে।
 
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, দেশে যক্ষ্মারোগীর আক্রান্তের হার প্রতি লাখে ২২৫ জন। এর মধ্যে বছরে নতুন রোগীর হার প্রতি লাখে ১০০ জন।
 
২০১৩ সালে এর সফলতার হার ৯৪ শতাংশ। বিশ্বের মোট যক্ষ্মারোগীর ৩৮ শতাংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাস করে। চিকিত্সা ছাড়া একজন যক্ষ্মারোগী বছরে ১০ জন সুস্থ লোককে আক্রান্ত করতে পারে। বিশ্বের যে ২২টি দেশের মধ্যে যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা সর্বাধিক, বাংলাদেশের অবস্থানে তার মধ্যে ষষ্ঠ।
 
বিশেষজ্ঞরা জানান যক্ষ্মারোগীদের অনেকে একবার ঢাকায় চিকিত্সা শুরু করে আবার গ্রামের বাড়িতে চলে যান, ফলে তাদের চিকিত্সা শেষ করা সম্ভব হয় না। এ সমস্যাকে বিশেজ্ঞরা নগর যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের প্রধান বাধা হিসাবে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করার লক্ষ্যে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
 
বক্তারা বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ছয়টি মহানগরে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত নগরায়ন, ভাসমান জনগোষ্ঠী, ঘনবসতি, বস্তিগুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ, অনেক রোগী শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাওয়া, গার্মেন্ট কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, সর্বোপরি সচেতনতার অভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী (এনটিপি)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ সালে ১ লাখ ৮০ হাজার শনাক্তকৃত যক্ষ্মারোগীর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই রয়েছেন ৬০ হাজার।
 
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ)-এর সভাপতি তৌফিক মারুফ এর সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির বিভাগীয় কনসালট্যান্ট ডা. আহমেদ পারভেজ জাবীন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের টিবি কন্ট্রোল প্রোগ্রাম-এর সিনিয়র ম্যানেজার ডা. কাজী আল মামুন সিদ্দিকী।
 
আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রোগ্রাম কনসালট্যান্ট ডা. মজিবুর রহমান ও অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নজিবুর রহমান, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেইঞ্জ কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাগুফতা সুলতানা।