দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা কর্তৃপক্ষের দ্বীপ নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তত্পরতাকে দ্বিমুখী আচরণ বলে অভিহিত করেছে চীন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার বুধবার চীনকে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির মতো কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বললে চীনের তরফ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। খবর আল জাজিরা ও রয়টার্সের।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—আইন মেনেই দ্বীপ সম্প্র্রসারণের কাজ চলছে। এর পরও বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। চীন কী করবে না করবে—এ বিষয়ে নাকগলানোর অধিকার অন্য কারো নেই।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়—যুক্তরাষ্ট্র ‘দ্বিমুখী’ নীতি অনুসরণ করছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং নিয়মিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন—বেইজিং আইন মেনে নিজের ভূখণ্ডে ওই দ্বীপ সম্প্র্রসারণের কাজ করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কিছু সুনির্দিষ্ট দেশের প্রতি অন্ধ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অথচ ওই দেশগুলো চীনের দ্বীপপুঞ্জ দখল করে আছে। এ সব বিষয়ে ওয়াশিংটন কিছু বলছে না, বরং তাদের মদদ দিচ্ছে।
ওই মুখপাত্র আরো বলেন—চীনের জনগণ নিজেদের বিষয়ে ন্যায়বিচার করতে জানে। বেইজিংয়ের কী করা উচিত, এ কথা বলার অধিকার কারো নেই।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে সেনাবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণের বিষয়ে বেইজিংকে সতর্ক করে দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টার। একই সঙ্গে তিনি বলেন—এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পানি ও আকাশ সীমায় টহল চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন।
এর মাত্র দুই দিন আগে এ ধরনের টহল অব্যাহত রাখলে চীন-মার্কিন যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে বেইজিং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের কাছে বড় ধরনের কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ওই অঞ্চলের সব প্রাকৃতিক দ্বীপের মালিকানা দাবি করার লক্ষ্যেই চীন এ কাজ করছে। এ ছাড়া, বেইজিংয়ের এ ধরনের দ্বীপ সম্প্রসারণের ফলে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক সংঘাত উস্কে দেয়া হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি—চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের একটি অংশের সঙ্গে দুই হাজার একর ভূমি যুক্ত করেছে বেইজিং।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমা নিয়ে ভিয়েতনাম, ফিলিপিনস, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে চীনের। সামরিক গুরুত্ব থাকা ছাড়াও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যের পথও।
