রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় রবিবার ৬ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেনে কাটাপড়ে ও সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন—রিকশাচালক কবির হোসেন (২৩), অন্য দুজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এ ছাড়া, সবুজবাগে স্ত্রীর সাথে অভিমান করে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন নির্মল দাস (৫০) নামের আরেক রিকশাচালক এবং ভাসানটেকে এক গৃহকর্মী ও পল্লবীতে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার এএসআই আব্দুল কুদ্দুস ফকির জানান—রবিবার সকাল ৮টার দিকে দয়াগঞ্জ কাঁচাবাজার রেললাইনে ট্রেনে কাটাপড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ওই যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।
তেজগাঁও থানার এসআই শামসুর রহমান জানান— ভোর রাত সোয়া তিনটার দিকে বিজয় সরণির মোড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রিকশাচালক কবিরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠালে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে—গাড়ির চাপায় রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিলেন কবির। জানা গেছে—তিনি হাজারীবাগ এলাকায় বাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। তার লাশ মেডিকেল মর্গে আছে।
একই এলাকায় রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে শনিবার দিনগত রাত ১২টার দিকে গাড়িরচাপায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি আহত হন। কাফরুল থানার এসআই ফজলুল হক ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশও মর্গে আছে।
এ দিকে, সকালে সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও দাসপাড়ায় স্ত্রীর ওপর অভিমান করে নির্মল দাস নামের এক রিকশাচালক আত্মহত্যা করেছেন। নির্মল দাসের মেয়ে শিখা রানী দাস জানান—সকাল ১০টার দিকে তার বাবা বিষপান করেন। এ সময় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি জানান—এক মাস আগে তার মা কল্পনা রানী দাস বাবার ওপর অভিমান করে তাদের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার রাজারপুল গ্রামে চলে যান। শনিবার তার মায়ের ঢাকায় আসার কথা ছিল। কিন্তু মা ঢাকায় না আসায় তার বাবা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন।
অপর দিকে, রাজধানীর ভাসানটেক এলাকায় দুপুরে লাভলী আক্তার (১৮) নামের এক গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে—ভাসানটেক থানার ৬১ নম্বর পশ্চিম ভাসানটেক মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
ভাসানটেক থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান বলেন, গৃহকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন তাদের জানিয়েছেন—লাভলী বাথরুমে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। লাশের পোস্ট মর্টেম রিপোর্টের পরই লাভলীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে রবিবার আরজু বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহের কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি মারা গেছেন বলে বাবুল নামে তার ভাই পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী হারেছ মিয়া পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে—সকালে পল্লবী ১২ নম্বর সেকশনের ১০ নম্বর রোডের ‘সি’ ব্লকের ৩ নম্বর বাড়ির ৭ তলায় গৃহবধু আরজু বেগম জানালার গ্রিলের সাথে গলায় ফাঁস নেয়। এরপর খবর পেয়ে পল্লবী থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) বাহাউদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত আরজুর স্বামী রিকসাচালান। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান। ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার হাজারীবাগ গ্রামে তাদের বাড়ি। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
