পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, তার আসন্ন বাংলাদেশ সফরে তিস্তার পানি নিয়ে কোনো কথা হবে না। গতকাল সোমবার একথা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ৫৬ বছর ধরে স্থল সীমান্ত নিয়ে সমস্যা ছিল। সমাধান করা দরকার। সেই কাজ করতে যাচ্ছি।
গতকাল কলকাতার টাউনহলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের সমস্যা নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। মমতা প্রকাশ্যে তিস্তার পানি নিয়ে কথা হবে না বললেও নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে এনিয়ে আলোচনা করেই চলেছেন। সেখানে মমতা বলেছেন, চুক্তি হলে বাংলাদেশ তিস্তার পানি পাবে। আর পশ্চিমবঙ্গ পাবে আর্থিক প্যাকেজ।
মমতার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, এবার নরেন্দ্র মোদী এবং শেখ হাসিনা দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একেবারে মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি বুঝে নিতে চান মমতা। তবে এনিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিকতা চান না। সরকারিভাবে বৈঠক হলে চাপ বাড়ে। তাই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি বোঝার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সমস্যার কথাও বলবেন মমতা। বলবেন তিস্তার সমাধান করতে হলে আগে উত্তরবঙ্গে তিস্তার আশপাশে জলাধার গড়ে পানি সঞ্চয় করে রাখতে হবে। তারপর সুখা মরশুমে তিস্তার নদী খাতে সেই পানি এনে ফেলতে হবে। তিস্তার নাব্যতা বাড়ানো দরকার। না হলে আগে চুক্তি হয়ে গেলে পরবর্তীতে এনিয়ে দু-দেশের মধ্যে অশান্তি হবে। তাই আগে তিস্তার পানি বাড়ানোর ব্যবস্থা করে তবেই চুক্তির পথে তিনি এগোতে চান। ঢাকায় মোদী, মমতাকে সেই কথাই বলবেন মমতা। আর এটা না হলে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ তাকে ভুল বুঝতে পারেন।
মমতার আশা দুই প্রধানমন্ত্রীই যথেষ্ট বিচক্ষণ। তারা তার এই সমস্যার কথা বুঝবেন। সমস্যার সমাধানে তার পাশে দাঁড়াবেন। তিস্তা খাতে পানি বাড়াতে দরকার আর্থিক প্যাকেজ, সে কথা অনুধাবন করবেন নরেন্দ্র মোদী। আর এই ব্যবস্থা যত দ্রুত হবে, তত তাড়াতাড়ি খুলবে তিস্তার সমাধানের পথ। এই ভাবনা নিয়েই ৫ জুন, শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একদিন আগেই ঢাকায় আসছেন মমতা ব্যানার্জি।
