চীনে জাহাজডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫। এ দিকে, নিখোঁজ প্রায় ৪০০ ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলের কাছে ইয়াংসি নদীতে বিক্ষোভ করেছে।খবর বিবিসি ও সিনহুয়ার।
নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের ক্ষুব্ধ সদস্যরা বৃহস্পতিবার জড়ো হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চান। মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়া পথে আধাসামরিক বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্য তাদের পথরোধ করেন। বাধা উপেক্ষা করে তারা ঘটনাস্থলের কাছে গিয়ে প্রতিবাদ করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোররাতে নানজিংয়ে জিয়াংসু প্রদেশের সহকারী পুলিশ প্রধান ক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজনদের জানিয়েছিলেন—তারা শুধু দিনে দুর্ঘটনাস্থলে যেতে পারবেন, তবে সাংবাদিকরা সঙ্গে যেতে পারবেন না।
নিহত ও নিখোঁজদের ক্ষুব্ধ আত্মীয়-স্বজন জীবিত ও নিহতদের নাম প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে জাহাজটির ক্রুর সংখ্যা বেশি কেন—এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। ঝড়ের সময় জাহাজটি তীরে ভিড়িয়ে রাখা হয়নি কেন, জাহাজটির উদ্ধার পাওয়া ক্যাপ্টেন ও ক্রু সদস্যরা লাইফ জ্যাকেট পরার সময় পেলেন কিন্তু অ্যালার্ম বাজানোর সময় কেন পেলেন না—এমন সব প্রশ্নের উত্তর চান তারা।
এ রকম পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে যাওয়া সরকারের একজন মন্ত্রী উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিতভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধারকাজে যথাযথ কর্মী ও তহবিল জোগানোর আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এ দিকে, বৃহস্পতিবারও শত শত উদ্ধারকর্মী অব্যাহতভাবে তাদের তত্পরতা চালিয়েছেন। কিন্তু দুই দিন পার হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কাউকে জীবিত উদ্ধার করার আশা ক্রমেই মিলিয়ে যাচ্ছে। বুধবার দিবাগত রাতে ৩৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৬৫ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
