আগামী বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৫, ০৩:৩২

নিউইয়র্ক সিটির মেডিসন স্কয়ারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংবর্ধনাসভায় দর্শকের চাপ ছিল প্রচণ্ড। যাকে বলে উপচে পড়া ভিড়। এই দর্শক-শ্রোতাদের বেশিরভাগই ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান। সংবর্ধনার জবাবে দেওয়া এক ঘণ্টার বক্তৃতায় মোদী যখন আরও শক্তিশালী ভারত গড়ে তোলার সংকল্পের কথা বলছিলেন, যখন শোনাচ্ছিলেন আশাবাদের কথা, তখন ‘মোদী মোদী’ হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সংবর্ধনা স্থল। অথচ কয়েক মাস আগেও এই শহরে তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়ার পর দৃশ্যপট বদলে গেছে।

 
দিল্লিতে নিজের বাসভবনে নিউইর্য়ক টাইমসকে দু ঘণ্টার এক সাক্ষাত্কার দেন নরেন্দ্র মোদী। এ সাক্ষাত্কারে তিনি আমেরিকাকে ভারতের প্রকৃত বন্ধু বলে উল্লেখ করেন। বিজেপি ও ভারতীয় সরকারের সংখ্যালঘুর প্রতি কথিত নির্যাতনের আত্মরক্ষামূলক জবাব দেন। কোন বিষয়টি তাঁকে বড় হওয়ার প্রবল প্রেরণা জুগিয়েছে তাও তুলে ধরেন তিনি। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি খুব গরিব ঘরে জন্মগ্রহণ করেছি। শৈশবে জীবিকার তাগিদে ট্রেনে চা বিক্রি করতে হয়েছে আমাকে। আর আমার মাকে কাজ করতে হয়েছে প্রতিবেশীর বাড়িতে।’ এ সময় মোদীর চোখ জলে ভরে যায়। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বলছিলেন, ‘সারাটা জীবনই আমাকে দারিদ্র্যের আঘাতে জর্জরিত হতে হয়েছে। আমার জন্য এটা ছিল আশীর্বাদ। এই চরম দারিদ্র্যই চলার পথে আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বড় কিছু করার। মূলত এখান থেকেই দরিদ্রদের জন্য কিছু করার দায়িত্ব বোধ সৃষ্টি হয় আমার মধ্যে। আমার নির্বাচনী প্রচারাভিযানেও তার প্রতিফলন ঘটে। আমার স্লোগান ছিল ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ।’ অর্থাত্ আমরা এক সাথে থাকব, আর এক সাথেই সবার উন্নয়ন করব।’
 
এই ধরনের চিন্তা-চেতনা, আশাজাগানিয়া স্লোগান এবং ভালো আগামীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কারণেই আজ তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন। সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের এক-ষষ্ঠাংশেরও বেশি অর্থাত্ ১২৫ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার। প্রধানমন্ত্রিত্বের এক বছর পূর্তির আগেই তিনি নিজেকে বিশ্ব রাজনীতির তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
 
রাতে মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমান। আর দিনের শুরুটা করেন মেডিটেশন ও যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে। আর সবসময় নিজের অফিসকে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করেন। শুনলে অবাক হবেন—তিনি তপস্যা বা ধ্যানের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় খুলেছেন। টুইটারে এই ৬৪ বছর বয়স্ক মোদীর ফলোয়ার বারকা ওবামার পরে সর্বোচ্চ। তিনি শুধু টুইটারে ভারতীয় ক্রিকেট দলকেই অভিনন্দন জানান না, সরাসরি মতামত প্রকাশ করতেও পছন্দ করেন।
 
বিশ্ব রাজনীতিতে তিনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। স্বয়ং আমেরিকার উপ-স্বরাষ্ট সচিব ও হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিকোলাস বার্ন এমনটি মনে করেন। তিনি দিল্লিকে আমূল পরিবর্তনের পরিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর এ প্রতিশ্রুতির কারণেই তিনি ক্ষমতায় আসতে পেরেছেন। ভারতে বর্তমানে অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা ২৫ বছরের কম বয়সী। এ তরুণরা সবাই ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে। মোদীর ক্ষমতায় আরোহণের সঙ্গে সঙ্গে ঘুমন্ত অর্থনীতি ও তরুণরা যেন জেগে উঠেছে।
 
১৯৯০ সালে ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে—২০০১ সাল পর্যন্ত যার শতকরা গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৫ পর্যন্ত। কিন্তু ভারতীয় অর্থনীতির শক্তি আবারও ধাক্কা খায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে। তার পরেও ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার ৫%, যা যেকোনো উন্নত দেশের জন্যই স্বপ্নের মতো। কিন্তু ভারতে এখনো চাকরি ও বেকারত্ব একটি জটিল সমস্যা। কেননা প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ভারতীয় তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। বিষয়টি এতদিন ছিল সরকারের দৃষ্টির অন্তরালে।
 
কালো ঘোড়ার উত্থান
 
আর তার পরেই ক্ষমতায় এলেন মোদী—যিনি ছিলেন ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির একজন প্রাদেশিক নেতা। ব্যাপক  প্রচারণায় বিশ্বাসী এই নেতা পুরো ভারতের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন গুজরাটে তাঁর অর্থনৈতিক সফলতার মাধ্যমে। তাঁর নেতৃত্বে অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে যায় গুজরাট। শুধু তাই নয়, ভারতের কঠোর আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যেও বিদেশিদের কাছে বিনিয়োগের স্বর্গ হিসেবে পরিচিতি পায়। মোদী এবং তাঁর সমর্থকরা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, গুজরাট মডেল পুরো ভারতের পুনরুত্থানে ভূমিকা রাখতে পারে। মোদী বলেছিলেন, ‘আপনাদের অনেক মুখ্যমন্ত্রীই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু তারা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কখনো তা পূরণ করতে পারেননি। আপনারা গুজরাটকে মানদণ্ড হিসেবে দেখুন। আর গুজরাটের আলোকেই আমি পুরো ভারতকে গড়ে তুলতে চাই’।
 
 
 
একজন নরেন্দ্র মোদীর উত্থান
 
নরেন্দ্র মোদী ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন গুজরাটের ভাদনগর শহরে। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর অধিকাংশ সময় মোদী কংগ্রেস দলকেই ভারত শাসন করতে দেখেছেন। নয়াদিল্লির এলিট শ্রেণির রাজনীতি থেকে মোদী তখন অনেক দূরে। কারণ তাঁর বাবা তখন পরিবারের জীবিকা নির্বাহে চায়ের দোকান চালাতেন। সতের বছর বয়সে মোদী পরিবার ছেড়ে ভারত ভ্রমণ শুরু করেন। গুজরাটের কেন্দ্রীয় শহরে প্রবেশ করেই তিনি বিজেপির অঙ্গ সংগঠন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ‘আরএসএস’-এ যোগ দেন। ১৯৮০ সালে তিনি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। যোগদানের কয়েক বছর পর রাজধানীতে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে কাজ শুরু করেন। ২০০১ সালের শেষ দিকে বিজেপির নেতৃস্থানীয়রা তাঁকে গুজরাট পাঠান মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য।
 
দিল্লির রাজনীতিতে আসার পূর্বে পুরোটা সময় গুজরাটেই ছিলেন।
 
 
 
আমেরিকার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি
 
‘আমি প্রকৃত বন্ধু বলতে বুঝিয়েছি—এ সর্ম্পক শুধু আমরা আমেরিকার জন্য কী করতে পারি আর আমেরিকা ভারতের জন্য কী করতে পারে—তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারত ও আমেরিকা মিলে পৃথিবীর জন্য কী করতে পারে। গণতন্ত্র বিকাশে এ দু’ দেশ এক সাথে কীভাবে কাজ করতে পারে।’
 
 
 
সন্ত্রাসী আক্রমণ মোকাবিলায়
 
‘জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের শুধু নাম, অবস্থান ও আক্রান্ত জাতিদের দিয়ে চিহ্নিত করলে চলবে না। কারণ এসব সন্ত্রাসীর ব্যক্তি নাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। বর্তমানে আমরা তালিবান বা আইএসএস-এর মতো সন্ত্রাসীদের মুখোমুখি হচ্ছি, আগামীতে হয়তো এর চেয়ে আরও বিপজ্জনক কোনো গোষ্ঠীর মুখোমুখি হবো। আমাদের জাতিসংঘ প্রণীত ‘কমপ্রিহেনসিভ কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম’ বিলটি পাস করানো উচিত। কারণ এতে করে আমরা অন্তত নিশ্চিত হবো যে আমরা কাকে সন্ত্রাসী বলব, আর কাকে বলব না। আমাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মকে আলাদা করা উচিত—যাতে করে আমরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ বা উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করতে পারি। কারণ অনেক রাষ্ট্রই মনে করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রত্যেকটি দেশেরই অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে সৃষ্ট। আমরা আইনের শাসন বজায়ে রাখতে জনগণের মানবিক গুণাবলি বিকাশে জোর দিতে পারি।’
 
 
 
অর্থনৈতিক পুনর্গঠন
 
‘এই সময়ের মধ্যে আমরা দেখতে পাই—সরকারের সিদ্ধান্তে তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, আমাদের সব পরিকল্পনা পঙ্গু হয়ে গেছে। সত্যি এখানে তেমন কোনো নেতৃত্ব ছিল না। আমার সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দায়িত্ব ছিল—বিরোধী দলের গত দশ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে আমার দশ মাসের কার্যক্রমের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা। এতে আমি দেখলাম—পুরো পৃথিবী আবারও আগ্রহী ও উত্সাহিত হয়ে উঠেছে ভারতে বিনিয়োগের ব্যাপারে। সেটা আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা অন্য কোনো ঋণদাতা সংস্থাই হোক না কেন, সকলেই বলছে—ভারতের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল।’ 
 
 
 
একনায়কতন্ত্র প্রসঙ্গে
 
‘আমি মনে করি ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আর আমাদের শিরা-উপশিরায় গণতন্ত্রের রক্তই প্রবাহিত। তার পরও যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয়—আপনি কি ভারতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান। তবে আমি সরাসরি না বলব। আর আপনি যদি আমাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিপরীতে সম্পদ, ক্ষমতা, ধনসম্পদ ও খ্যাতি পছন্দ করতে বলেন, তবে আমি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেই বেছে নেবো।’
 
 
 
ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা
 
‘ভারতে নানা ধর্মের মানুষ বাস করে। অনেক নাগরিক ভাবে—তারা তাদের ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারছে না। আমার ও আমার দলের দর্শন হচ্ছে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’। প্রত্যেককে সাথে নিয়েই আমরা অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতে পারি। বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হতে পারে। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে আমরা তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের দৃষ্টিতে একমাত্র পবিত্র গ্রন্থ ভারতের সংবিধান। ঐক্য ও সততাকে দেশের পুনর্গঠনে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রত্যেক ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর সমান অধিকার। আর আমার দায়িত্ব হচ্ছে—তাদের জীবনের পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
 
 
 
মোদিকে প্রভাবিত করার বিষয়সমূহ
 
‘শ্বাসরুদ্ধকর দারিদ্র্য ও কান্না আমাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করে। আমি দারিদ্র্যকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। আমার পুরো শৈশব দারিদ্র্যে জর্জরিত। আর এই দারিদ্র্যই আমাকে বড় হতে উত্সাহ জুগিয়েছে। আমি তখন থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি— আমি নিজের জন্য বাঁচব না, বরং অন্যের ভালো কিছুর করার জন্য বাঁচব।’
 
নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনে জয় লাভ করার পর কেউ ভাবতে পারেননি বিশ্বরাজনীতিতে তিনি কী ধরনের অবস্থান নেবেন। আর সেটাই সবাই জানলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য মোদী দক্ষিণ এশিয়ার সকল নেতাকে আমন্ত্রণ জানান। এমনকি ভারতের দীর্ঘদিনের শত্রু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে অভিনন্দন পাওয়ার মতো কাজ করেন তিনি। পুরোটা বছর ভারতের সর্বত্র এমনকি দক্ষিণের ক্ষুদ্র রাজ্যগুলো ভ্রমণ শেষে শ্রীলংকা সফরে যান মোদী। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে উষ্ণ কূটনৈতিক সর্ম্পক গড়ে তোলে শ্রীলংকা। চীন শ্রীলংকাকে বিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
 
১৯৯০ সালে ভারতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের পর আমেরিকার সঙ্গে ভারতের হূদ্যতাপূর্ণ সর্ম্পক গড়ে ওঠে। সেই হূদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়— মোদীর আমেরিকা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। প্রশ্ন ওঠে— মোদী কি তাঁর উপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞাকে সহজে মেনে নেবেন? অনেকে মনে করেন—মোদী প্রচণ্ড জাতীয়তাবাদী মনোভাব প্রকাশ করবেন বা অন্ধ স্বদেশপ্রেম দেখাবেন। আর এতে করে ভারত-মার্কিন সর্ম্পক আরও জটিল আকার ধারণ করবে। কিন্তু তিনি বাস্তবতার তাগিদে দারুণ সিদ্ধান্ত দিলেন। তাঁর উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখালেন না। তিনি অতীতকে অতীতের মতো থাকতে দিলেন না। বরং অতীতকে পরিবর্তন করে ফেললেন। আর আমেরিকার সঙ্গে হূদ্যতাপূর্ণ সর্ম্পক তৈরিতে মনোযোগী হলেন। মোদী সেপ্টেম্বরের আমেরিকা সফরে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানালেন। আর জানুয়ারিতেই বারাক ওবামা নয়া দিল্লিতে এলেন। দেখলেন ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের বিশাল শক্তিশালী সেনাবাহিনীর প্যারেড। আর আমেরিকান কোনো প্রেসিডেন্ট এর আগে এমন সৌভাগ্য অর্জন করেননি। টাইম ম্যাগাজিনের বিচারে মোদী পৃথিবীর একশজন প্রভাবশালী নেতার অন্যতম হলেন এভাবেই। এমনকি ওবামাও নরেদ্র মোদীর আন্তরিক সৌজন্যবোধ ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে বলেছেন, ‘মোদী তাঁর দেশের মানুষের অবস্থার উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ 
 
 
 
সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
 
গত বছর ভারতের অর্থনীতির চেহারার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যদিও তার পুরোটা কৃতিত্ব মোদীর নয়। মার্চে আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘ভারত হচ্ছে অর্থনীতির মেঘলা আকাশে একটি উজ্জ্বল তারা।’ ভারতে এখন মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ কমেছে। আর বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমহ্রাসমান মূল্য ভারতের অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করেছে। কারণ বিশ্ববাজারে দক্ষিণ এশিয়ায় অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশের ক্রেতাই হলো ভারত। বিরোধী রাজনৈতিকরা মোদীকে ব্যবসায়ী-বান্ধব, গরিববিরোধী সরকার বলে প্রমাণ করতে চাইছে। যদি তারা এতে সফল হয়, তবে রাজ্যসভার নির্বাচনে বিজেপি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারে। এতকিছুর পরেও মোদী অর্থনৈতিক পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পুরো পৃথিবী ভারতের ব্যাপারে আগ্রহী। বিশ্ব অবাক হয়ে দেখছে—ভারতের প্রতিনিধিত্ব সর্বত্র। গত বছর আমরা আমাদের পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে পেরেছি। আর বাকি চার বছর আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাব। আর সেটাই প্রমাণ করবে আমাদের অগ্রসরতা ও উন্নয়নকে।’
 
সত্যি আজ ভারতের দিকে পুরো পৃথিবীর দৃষ্টি। অতীতের ব্যর্থতা ও হতাশাকে মুছে ভারত সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পেরেছে। আর মোদী যখন প্রধানমন্ত্রিত্বে দ্বিতীয় বছরে প্রবেশ করছেন, তখন কোটি কোটি ভারতবাসী অসম্ভবকেও সম্ভব বলে ভাবতে পারছেন।
 
 
 
প্রতিবেদন :নিখিল কুমার
 
ভাষান্তর :শামস আরেফিন
 

টাইমস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে ভাষান্তরিত।