পাহাড়, নদী, লেক, সমতল, বনবীথি সবই রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কাপ্তাই উপজেলায়। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে অতি সহজে কাপ্তাই আসা যায়। আবার কর্ণফুলী নদীপথেও অনায়াসে কাপ্তাই আসার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া আকাশপথেও বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে অনায়াসে কাপ্তাই আসা সম্ভব। কাপ্তাই উপজেলায় ২টি হেলিপ্যাড রয়েছে। এত কিছুর সমাহার যে উপজেলায় তাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা খুবই দরকার। সেই কাজটিই শুরু হতে যাচ্ছে। কাপ্তাইকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাপ্তাইকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সমগ্র কাপ্তাই উপজেলার উন্নয়নের পাশাপাশি বিশেষ কিছু এলাকাকে চিহ্নিত করে উন্নয়ন কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা যাতে কাপ্তাই ভ্রমণে এসে আরামদায়ক পরিবেশে রাত্রী যাপন করতে পারেন সে লক্ষ্যে কাপ্তাইয়ে পাঁচ তারা হোটেল নির্মাণের প্রক্রিয়াও হাতে নেয়া হয়েছে।
বর্তমানে কাপ্তাইয়ে ১১টি আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো নৌবাহিনী পরিচালিত ‘লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট’, সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘লেকশো’র সেনা রিজোর্ট, বিজিবি পরিচালিত ‘প্যানোরমা জুম রেস্তোরাঁ’, বনবিভাগ পরিচালিত কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, প্রশান্তি বিনোদন কেন্দ্র, বেসরকারি পর্যটন কেন্দ্র বনশ্রী ইত্যাদি। এসব বিনোদন কেন্দ্রে প্রতিবছর এমনিতেই বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসেন। এখন যদি কাপ্তাইকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয় এবং উন্নতমানের আবাসিক হোটেল তৈরি করা হয় তাহলে এখানে পর্যটকের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় উন্নয়ন বৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু লোকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে কাপ্তাইয়ে।
