সিংড়ায় সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ ৩০ হাজার মানুষ

আপডেট : ২০ জুন ২০১৫, ০১:০৬

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ী, আয়েশ, ডাহিয়া, পারিলসহ ৬টি গ্রামে সাইফুল-রেজা বাহিনীর আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে প্রায় ৩০হাজার মানুষের। ভয়ে স্থানীয় একটি মসজিদের ছাদে রাত যাপন করছেন অনেকে।  অভিযোগ উঠেছে, নাটোরের একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির মদদে এলাকায় তারা এসব অপতত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অস্ত্র মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরে পুনরায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। সন্ত্রাসীরা গত তিনদিনে ওই এলাকার প্রায় ২০-২৫ বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। তাদের ভয়ে গ্রাম ছেড়েছে মজনু, মধু, জয়নাল, জুয়েল, রউফ, মুনছুর, মিলন, অলক, রানা আহমেদসহ প্রায় ৫০টি পরিবার।

 
জানা গেছে, চলনবিলের পুকুর দখল, লুটতরাজ, হুমকি-ধামকি, সুতি দখল, জেলেদের জিম্মি করে ঘের দখলসহ বিভিন্ন প্রকার অত্যাচারে জড়িত এই বাহিনী। এদের অত্যাচার থেকে রেহাই পাবার জন্য সম্প্রতি ডাহিয়া বাজারে পর পর দুইবার ভুক্তভোগী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ শান্তি ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। কিন্তু দুুর্গম এলাকা হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছে না। গত ১৮ জুন আয়েশ গ্রামের শতাধিক মানুষ সাইফুল-রেজা বাহিনীর বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় অভিযোগ করে। এর আগে গত ১৭মে তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম হতে ৩ শতাধিক লোক স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলকের সাথে দেখা করে নির্যাতনের প্রতিকার চান। আর ওইদিন রাতেই বেড়াবাড়ী গ্রামে বাবু সরদার ও অফিজের বাড়ি লুট করে এই বাহিনী।
 

বিভিন্ন তথ্য মতে, ১৯৯৬ সালের ২৬ মে নিরীহ যুবক আমিরুলকে প্রকাশ্য খুন করার মধ্য দিয়ে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর আবির্ভাব ঘটে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে বাড়িঘর লুটপাটসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি এবং গ্রামছাড়া করে আসছে। এই কারণে আমিরুল হত্যার মামলার বাদী ও সাক্ষীরা ১৭ বছর ধরে আদালতের বারান্দায়ও পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ২০১৩ সালে হত্যা মামলা হতে অব্যাহতি পেয়ে যায় তারা। এরপর তাদের দাপট আরও বাড়তে থাকে। ওই বছর ১৮ ডিসেম্বর বেড়াবাড়ী গ্রামের ১০ কৃষকের বাড়ি লুটপাট করে তারা। এ সময় ২৫জন কৃষক গুলিবিদ্ধ হয়। ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর পুনরায় গ্রামের লোকজনের উপর হামলা করে এবং নিরীহ মানুষের উপর গুলি চালায়। এতে প্রায় ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় সিংড়া থানা পুলিশ এবং এসপি সার্কেলসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ সাইফুলকে আটক করে। এরপর থেকে এলাকায় শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছিল। ডাহিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম এম আবুল কালাম বলেন, এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই বাহিনীর নির্যাতনের সাক্ষী। সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মণ্ডল বলেন, এলাকা দুর্গম হওয়ায় এদের ঠেকানো কঠিন। তারপরেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। পুলিশ ওই এলাকায় পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসীরা খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় চলে যায়। পুলিশ ফিরে এলে ফের তারা এলাকায় ফিরে এসে এলাকাবাসীর উপর চড়াও হয়।