যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পুরুষদের একটি ভলিবল খেলা দেখতে দেয়া হয়নি ইরানি নারীদের। বিষয়টিতে ইরানের মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর আগে খেলাটি দেখতে দেয়া হবে—এমন ইঙ্গিত দেয়া হলেও কট্টরপন্থীদের হুমকির মুখে ইরানি কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তটি নেয়। খবর বিবিসির।
এ রকম খবর জানা গিয়েছিল—ইরানের ক্রীড়া ফেডারেশন সীমিত সংখ্যক নারীকে শুক্রবারের ওই খেলাটি দেখতে অনুমতি দেবে, যে খেলাটিতে ইরান ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। কিন্তু এর বিরোধী কট্টরপন্থী রক্ষনশীলরা ফেডারেশনকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে বলে মনে হচ্ছে। ইসলামপন্থী এই দেশটিতে পুরুষদের খেলা দেখতে নারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তুলনামূলকভাবে উদার হাসান রৌহানির সরকার মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর চাপের কাছে নত হতে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে ইচ্ছুক বলে ধারণা করা হয়েছিল।
ইরানের নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহিনদখত মোলাভার্দি গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন—সীমিত সংখ্যক নারী—প্রধানত খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভলিবল খেলাটি দেখতে অনুমতি পাবেন। এ ছাড়া, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক ভলিবল ফেডারেশন বলেছিল—তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামে দর্শকদের সঙ্গে নারীদের যোগ দেয়ার ব্যাপারে ইরানের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার রাতে যখন নারীদেরকে খেলাটি দেখতে বাধা দেয়া হয়, তখন মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কাগুলো বাস্তবে পরিণত হয়।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে—নারী সাংবাদিকদেরও স্টেডিয়ামে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। নারীদেরকে খেলা দেখতে না দেয়ার এই সিদ্ধান্তটির পর ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। নারী অধিকার ও মানবাধিকার কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
