বাংলাদেশ রেলওয়ে পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করবে। প্রতিদিন ছাড়া হবে ৪৮ হাজার টিকেট। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৪টি টিকেট কিনতে পারবেন। তবে বিক্রি হওয়া টিকেট ফেরত নেয়া হবে না। এদিকে টিকেট কালোবাজারি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। এজন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে র্যাব। থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালতও।
রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেছেন, এবার তাদের প্রধান লক্ষ্য সময়মতো যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া। এবারও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন রেলওয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রেন চলাচলে যাতে সিডিউল বিপর্যয় না ঘটে সে জন্য ১৩ জুলাই থেকে ঈদের পূর্ব দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের ‘অফ ডে’ থাকবে না।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ৯ জুলাই বিক্রি হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকেট, ১০ জুলাই ১৪ জুলাইয়ের, ১১ জুলাই ১৫ জুলাইয়ের, ১২ জুলাই ১৬ জুলাইয়ের এবং ১৩ জুলাই ১৭ জুলাইয়ের টিকেট বিক্রি হবে। এছাড়া ঈদ পরবর্তী সময় রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অগ্রিম টিকেট বিক্রি হবে। ১৬ জুলাই বিক্রি হবে ২০ জুলাইয়ের টিকেট, ১৭ জুলাই বিক্রি হবে ২১ জুলাইয়ের টিকেট, ১৮ জুলাই বিক্রি হবে ২২ জুলাইয়ের টিকেট, ১৯ জুলাই বিক্রি হবে ২৩ জুলাইয়ের টিকেট এবং ২০ জুলাই বিক্রি হবে ২৪ জুলাইয়ের টিকেট।
নিয়মানুযায়ী প্রতিটি ট্রেনের ৬৫ ভাগ টিকেট সাধারণ যাত্রীদের সরাসরি বিক্রির জন্য বরাদ্দ থাকবে। ভিআইপিদের জন্য ৫ ভাগ, রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ ভাগ এবং বাকি ২৫ ভাগ ই-টিকেট ও মোবাইলে বিক্রির জন্য বরাদ্দ থাকবে। কেবল নিজে ভ্রমণের জন্য ভিআইপি কোটায় টিকেট পাবেন ভিআইপিরা। একজন সংসদ সদস্য কোটা অনুসারে দুইটির বেশি টিকেট নিতে পারবেন না।
রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এস এম রহুল আমিন জানান, টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার জিআরপি, র্যাব ও ডিএমপির মতিঝিল থানা পুলিশকে নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেছে। তিনি বলেন, সকল বড় রেলস্টেশনে জিআরপি, আরএনবি, স্থানীয় পুলিশ, বিজিবি এবং র্যাবের সহযোগিতায় টিকেট কালোবাজারি প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকদের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান বলেন, এবারও ঈদের আগে পাঁচ দিন ও ঈদের পরের সাত দিন স্পেশাল ট্রেন সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা দেয়া হবে। এর মধ্যে ঈদের আগে মোট পাঁচ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলবে।
যে সব রুটে বিশেষ ট্রেন চলবে সেগুলো হলো: ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা (১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)। চট্টগ্রাম-চাঁদপুর -চট্টগ্রাম (১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)। চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)। পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর (১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)। খুলনা-ঢাকা-খুলনা (১৫-১৭ জুলাই ও ২০-২৬ জুলাই)। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ- ময়মনসিংহ (শোলাকিয়া এক্সপ্রেস, ঈদের দিন)।