নিউ হরাইজনসের প্লুটো পরিদর্শন

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৫, ০১:২০

নয় বছর ধরে প্রায় ৫০০ কোটি কিলোমিটার পথ পরিভ্রমণের পর একটি মহাকাশযান সৌরজগতের সবচেয়ে ছোট গ্রহ প্লুটোর পাশ দিয়ে সফলভাবে উড়ে গেছে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা’র বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এটি এক বড় ঘটনা। খবর: এএফপি ও বিবিসি’র।

 
মঙ্গলবার নাসার মানববিহীন মহাকাশযান নিউ হরাইজনস প্লুটোকে প্রথমবারের মতো পরিদর্শন করে। ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ হাজার কিলোমিটার বেগে প্লুুটোর সাড়ে ১২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে চলে যায় নিউ হরাইজনস। প্রদক্ষিণকালে নিউ হরাইজনস নাসা’র বিজ্ঞানীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব দ্রুত এবং ভালোভাবেই প্লুুটোর কাছে পৌঁছেছে নিউ হরাইজনস।
 
যাত্রা শুরুর পর বহুদূর থেকেই একের পর এক প্লুটোর ছবি পাঠিয়েছে পারমাণবিক শক্তি চালিত মহাকাশযানটি। তবে দূর থেকে পাঠানো ছবিগুলো স্পষ্ট ছিল না। মহাকাশযানটি গ্রহের যত কাছে গেছে ততই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ছবিগুলো।
 

এতদিন মনে করা হতো যে সৌরমন্ডলীতে প্লুটোর অবস্থান সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে। কিন্তু ২০০৬ সালে এই ধারণা বদলে যায়। মানববিহীন মহাকাশযান পাঠিয়ে সৌর জগতের অন্যান্য গ্রহ সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে। সেই পথ ধরে প্লুটোই ছিল শেষ গ্রহ মানুষের তৈরি কোনো মহাকাশযান যার কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছে। প্রদক্ষিণের কয়েক ঘণ্টার পর থেকে নিউ হরাইজনস-এর তোলা প্লুটোর ছবিসহ নানা তথ্য ধীরে ধীরে এসে পৌঁছতে শুরু করে। নিউ হরাইজনস যাত্রা শুরু করেছিল ২০০৬ সালের ১৯ জানুয়ারি। বলা হয়, এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাকাশযান। আগামীতে এর মাধ্যমে আরো বেশি ছবি ও নতুন নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা মনে করছেন, এই মহাকাশযান প্লুুটো সম্পর্কে এমন সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে যাতে সৌরজগতের প্রান্ত সম্পর্কে মানুষের ধারণাই বদলে যেতে পারে।