‘বাংলাদেশের জীবনমান-পরিবেশের উন্নয়নে বড় বাধা দুর্নীতি’

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০১৫, ১৪:৩৫
তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বাংলাদেশের জীবন মান এবং পরিবেশের উন্নয়নে বড় বাধা হচ্ছে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ব্যানারে কিছু স্বার্থান্বেষী মুখোশধারী রাজনীতিবিদ, আমলা, কনসালটেন্ট ও বুদ্ধিজীবী। পাশাপাশি রয়েছে ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে গোপন চুক্তি, অস্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া। এসব কারণেই দেশের উন্নয়নের পরবির্তে ভাগ-বাটোয়ারা ও কমিশন বাণিজ্যে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কাছে জিম্মি পুরো দেশের জনগণ।
 
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস মামুন’স টিউটোলিয়াল মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ এনভারণমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) এবং প্রোগ্রেসিভ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় একক বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রফেসর আনু মুহাম্মদ। 
 
প্রোগ্রেসিভ ফোরামের প্রেসিডেন্ট খোরশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সৈয়দ ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনার দর্শকসারিতে ছিলেন পরিবেশবিদ, বামধারার রাজনীতিক ও গণমাধ্যম কর্মীরা।
 
এ সময় বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্নকারীদের নানা প্রশ্নেরও জবাব দেন তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির এই নেতা। 
 
আনু মুহাম্মদ বলেন, কাগজ-কলমে জিডিপি বাড়লেও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে দুর্নীতি। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলেই অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়ছে। এর ফসল হচ্ছে জিডিপি’র গ্রোথ।’
 
তিনি আশা করেন, ‘জাতীয় ভাবে সরকার জনগণের স্বার্থ দেখলে উন্নয়ন সম্ভব। তবে বাস্তবে তা হচ্ছে না। বর্তমানে দুর্নীতি হচ্ছে ফলাফল। এতে নীতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’ 
 
তিনি বলেন, জিডিপি কেন্দ্রিক উন্নয়নের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। গোপন চুক্তি বন্ধ করতে হবে। আজকে যদি স্বচ্ছতা থাকে তাহলে জনগণের কাছেও সব পরিষ্কার হবে, কমে যাবে দুর্নীতি।
 
আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘বর্তমানে রাজনৈতিক ঐক্য না হলেও, আমাদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে ঠিকই ঐক্য রয়েছে। কারণ এই আন্দোলন অব্যাহত থাকলে দখলদার, কমিশন বাণিজ্য, ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যাবে। মুখোশধারীরা নিজেদের স্বার্থ বাঁচিয়ে রাখতে এসব করছে। এদের কোন দল নেই। এরাই দেশের জন্য বড় সমস্যা।’