রাজধানীর বাড্ডায় বৃহস্পতিবার রাতে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাসহ দুইজনকে হত্যা করেছে। নিহতরা হলেন- ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামছুদ্দিন মোল্লা (৫৩) ও মানিক (৪২)। রাত ৯টার দিকে মধ্যবাড্ডার আদর্শনগর পানির পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মাহবুবুর রহমান গামাসহ যুবলীগের আরেক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
গামাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল ও বাড্ডা ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি সামাদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) শেখ মারুফ হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, কি কারণে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।
বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রতিপক্ষের হাতে এ দুইজন খুন হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মধ্য বাড্ডা আদর্শনগর শ-২৩/বি, আলসামি হাসপাতালের পাশে ওয়াসার পানির পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে প্রায় প্রতি রাতে ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ উত্তরের সহ-সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক মাহবুবর রহমান গামার নেতৃত্বে আড্ডা হতো। ঘটনার সময় গামা, শামসুদ্দিন, মানিক ও সামাদ প্লাস্টিক চেয়ারে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলের সামনে বা পাশে কোন দোকান ছিল না। এক ধরনের নিরিবিলি অবস্থার মধ্যে জুয়েল নামে স্থানীয় এক সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে ৫-৬ জন যুবক হেঁটে সেখানে উপস্থিত হয়। দুর্বৃত্তরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ১০-১২ টি গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আশেপাশের লোকজন গুলিবিদ্ধ চারজনের মধ্যে সামাদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বাকি তিনজনকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে শামছুদ্দিন মোল্লা ও মানিককে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মানিক স্থানীয় হাফস জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্লাস্টিকের চেয়ার ছিদ্র হয়ে গেছে। সেখানে রক্তের দাগ লেগে আছে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গামার নামে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার টানানো রয়েছে।
একজন এলাকাবাসী জানান, ২/৩ বছর ধরে এই এলাকায় ১৫ আগস্টের শোক দিবস গামার নেতৃত্বে পালিত হয়ে আসছে। এলাকায় কাঙালিভোজ ও আলোচনা সভার পরিকল্পনা গামাই করে থাকেন। তবে কয়েকদিন আগে বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী যুবলীগের বাউল সুমন হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার পর তার এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জয়নাল, জাহাঙ্গীর, আলমগীর, ফরহাদ, কায়ছার ও সিরাজ গ্রুপের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। গামা বাউল সুমনের একটি গার্মেন্টস কারখানা দখল করে নিলে প্রতিপক্ষ ওই ৬টি গ্রুপের কোন একটি গ্রুপ থেকে গতকাল রাতে ওই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।
