ফেসবুকে তিন জনের সঙ্গে প্রেম, ফেঁসে গেলেন যুবক

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৫, ২০:১৩

ফেসবুকে একসঙ্গে তিন জনের সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন তবিবর রহমান নামের এক যুবক। রোববার বিকেলে যশোর শহরের ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের সামনে তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় ওই নারীদের স্বজনরা। নৌবাহিনী সদস্য তবিবর রহমান মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

কোতয়ালি থানার এএসআই জাহিদ হোসেন জানান, তবিবর রহমান একইসঙ্গে তিন মেয়ের সঙ্গে প্রেম করতেন। রবিবার দুপুরে তিনি একজনের সাথে দেখা করতে যশোরে আসেন। ওই মেয়ের সাথে তবিবরের পূর্বের প্রেমিকা ছিল। তারা আগে থেকে সেখানে কয়েকজনকে সংবাদ দিলে তবিবরকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে।

তবিবর রহমান জানান, নৌবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল হিসেবে তিনি ৫ বছর চাকরি করছেন। বর্তমানে তিনি খুলনায় আছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে যশোর শহরের বারান্দীপাড়ার রুকাইয়া নামে এক মেয়ের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। রুকাইয়ার ফেসবুক আইডির ছদ্মনাম জেরিন জান্নাত। তিনি তাকে বিয়েরও প্রস্তাব দেন। কিন্তু জেরিন তার সাথে নানা ছলছাতুরির আশ্রয় নেয়। সে তার খালাতো বোন মরিয়ম শাহরিয়ারকে পরিচয় করিয়ে দেয়। মরিয়মকেও তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু মরিয়াম বিবাহিত বলে রাজি হননি। পরে তারাই তাদের অপর বন্ধু ইন্নাকে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি কথা বলতে চাইলে রবিবার তারাই পরিকল্পিভাবে শহরে ডেকে নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, আমি একজনের সাথে প্রেম করেছি। তাকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছি। কিন্তু তিনজনে একত্রিত হয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ওই তিন নারীর সাথে তিনি কোনো প্রতারণা করেননি। তিন জনের মধ্যে রুকাইয়া ও ইন্না যশোর সরকারি মহিলা কলেজে এবং মরিয়ম আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজে লেখাপড়া করে বলে তবিবর জানান।

কোতয়ালি থানার ওসি শিকদার আককাস আলী ইত্তেফাককে জানান, তবিবর থানায় ফোন করে নিজের নিরাপত্তার অনুরোধ জানালে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ফেসবুক ফ্রেন্ড নারীদের কেউ মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর অভিযোগ না করলে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ তার ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবেন। ইতিমধ্যে খুলনায় নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।