ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্পসহ ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভপতিত্বে মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ৪টি নতুন ও ২টি সংশোধিত। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯৬১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮১৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের অনুমোদিত প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫টি অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সিসি সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়নে ২৫০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, নর্দমার উন্নয়নসহ যানজট হ্রাস পাবে, সেইসাথে পথচারীদের চলাচলে সুবিধাও বৃদ্ধি পাবে। চলতি বছরের জুলাই হতে ২০১৭ সালের জুলাই মেয়াদে প্রকল্পটি শেষ হবার লক্ষ্য রয়েছে।
বৈঠকে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া সেকশন পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানা-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া নতুন রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে জানানো হয়—পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে রেলপথ হলে ঢাকা থেকে যশোর হয়ে খুলনা পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে। তখন রেলপথ হবে ঢাকা-মাওয়া-জাজিরা-ভাংঙ্গা(রেল জংসন)-যশোর-খুলনা।
এ ছাড়া, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান ও সমাধিস্থল টুঙ্গীপাড়া উপজেলাকে বিদ্যমান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের লক্ষে কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ হয়ে টুঙ্গীপাড়া পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন করা প্রয়োজন। এজন্য কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া সেকশন পুননির্মাণ এবং কাশিয়ানী গোপালগঞ্জ-টুঙ্গীপাড়া নতুন রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, বৈঠকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ৩৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআরইআর) এর প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত ভৌত সুবিধাদি সৃষ্টি প্রকল্প। ৪৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিসিএস এডমিনিস্ট্রেশন একাডেমি ভবনের সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষণ সুবিধাদি সম্প্রসারণ প্রকল্প। ১২৫৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের নদী ড্রেজিং এর জন্য ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয় (১ম সংশোধিত) প্রকল্প এবং ৩৫৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ধান, গম ও ভুট্টার উন্নতর বীজ উত্পাদন ও উন্নয়ন প্রকল্প।
পরিকল্পণামন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে বছরে ৩ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন বীজ দরকার। বিএডিসি উত্পাদন করে ১ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিএডিসির উত্পাদন ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়াবে।
