চলতি অর্থবছর বাংলাদেশে ১১টি প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক। সব মিলিয়ে ১৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার দেবার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির। বাংলাদেশের উন্নয়নে এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
বৈঠকে ইআরডির সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ কার্যালয়ের আবাসিক প্রধান ইউহানেস জাট ছাড়াও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিশ্রুতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইআরডি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলতি অর্থবছরের পাইপ লাইনে থাকা প্রকল্পগুলো নিয়ে বিস্তাারিত আলোচনা করতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করা, যাচ্ছে দ্রুত কয়েকটি প্রকল্পে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়—ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট বিদ্যুত কেন্দ্র রিপাওয়ারিং প্রকল্প বাস্তবায়নে পাওয়া যাবে ২৫ কোটি ডলার। এ ইউনিট থেকে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উত্পাদন সম্ভব হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি হতে পারে। এছাড়া দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার, নির্বাচিত কলেজের উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার, সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুতকেন্দ্র অতিরিক্ত ১৮ কোটি ডলার দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। চলমান জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে ৭০ লাখ ডলার অনুদান দেবার লক্ষ্য রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে অনুদান চুক্তি হবে। যমুনা নদীর বাঁধ রক্ষায় ঋণ পাওয়া যাবে ৬০ কোটি ডলার।
এ ছাড়া, রিজিওনাল ক্লইমেট সার্ভিস প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, নদী পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২১ কোটি ডলার, জলবায়ু ও আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ৭ কোটি ডলার, বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ৫ কোটি ডলার ও বীমা খাতের উন্নয়নে ৫ কোটি ডলার দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। কাজী শফিকুল আজম জানান, মূলত প্রকল্পের প্রস্তুতির উপরই নির্ভর করবে অর্থায়নের বিষয়টি। এ সব প্রকল্প হাতে নেয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রস্তুতিমূলক কাজের অগ্রগতির দিকটিও দেখতে হবে।
