মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৫, ০৮:৩৭

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে কর্মী নেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। আগামী তিন বছরে বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নেয়ার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই বাংলাদেশের কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের লবিং ও তত্পরতার কারণে কর্মী প্রেরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব তত্পরতায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

 
গত জুনে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি জানান, দেশটির বিভিন্ন খাতে কর্মী চাহিদা পূরণে কয়েকটি ধাপে মোট ১৫ লাখ কর্মী বাংলাদেশ থেকে নেয়া হবে। এই ঘোষণার পরপরই এই শ্রমবাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত জুনের শেষদিকে জনশক্তি রপ্তানিকারকের সংগঠন বায়রা’র পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে মালয়েশিয়াস্থ ‘রিয়েল টাইম নেটওয়ার্কিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব করা পদ্ধতি ‘ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’ অনুসরণের সুপারিশ করে বায়রা। প্রসঙ্গত, এই ‘রিয়েল টাইম নেটওয়ার্কিং’ এর মালিক একজন বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানিকারক।
 
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক চুক্তির আগে বায়রার এই চিঠিতে মালয়েশিয়া সরকার ক্ষুব্ধ হয়েছে। আর এ কারণেই মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বায়রা’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী হায়দার চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ চিঠিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য আমরা সুপারিশ করিনি। একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার সিন্ডিকেট মুক্ত করতেই ওই চিঠি দেই।’ 
 

এদিকে বিভিন্ন মহলের এ ধরনের তত্পরতার খবরে হতাশ মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী কর্মীরা। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক মাস আগে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার হিড়িক পড়ে। অনেক বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাওয়ার সময় সাগরে, বনে-জঙ্গলে জীবন দিয়েছে। এরপর বেসরকারিভাবে মালয়েশিয়ার শ্রমিক নেয়ার খবর অনেকটাই স্বস্তি এনেছিলো। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী নেয়ার আগেই বিভিন্ন মহলের এই তত্পরতা হতাশাজনক। আর কর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া কুক্ষিগত হলে অভিবাসন খরচও অনেকাংশে বেড়ে যাবে বলে তাদের মত।