সৈয়দপুরে রেলওয়ে কারখানার ক্রেইনের চেন ছিড়ে আহত শ্রমিক শেখ মহিউদ্দীনের (৫৪) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার তিনি মারা যান। তিনি রাজধানীর কাকরাইল ইসলামী সেন্ট্রাল হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার আধুনিকায়নের জন্য যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ করছে একটি চায়না কোম্পানির বাংলাদেশি এজেন্ট সাব্বির লিমিটেডের লোকজন। তারা সৈয়দপুর রেলকারখানার ক্যারেজ সপে ট্রেনের কিছু চাকা ফিটিং, রিপিয়ারিং ও ফিটনেসের যন্ত্রাংশ ক্রেইনে বসিয়ে উপরে ঝুলিয়ে রেখেছিল। ৩০জুন দুপুরে ক্রেইনের চেন ছিড়ে সৈয়দপুর রেলকারখানার নিজস্ব শ্রমিক মহিউদ্দিনের ওপর পড়লে তিনি গুরুত্বর আহত হন। তাকে প্রথমে সৈয়দপুর রেলওয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর রংপুর থেকে ৩জুলাই তাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে ১৬জুলাই তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকার ইসলামী সেন্ট্রাল হাসপাতালের আইসিইউতে। ঘটনার এক মাস ২৯দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তিনি মারা যান।
নিহত শ্রমিক মহিউদ্দিনের পুত্র সহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, 'যাদের কারণে আমার বাবা এক মাস ২৯দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা গেলেন, তারা চিকিৎসার কোনো দায়ভার গ্রহণ করেনি। পরিবার থেকে চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহন করা হয়েছে। কিন্তু বাবাকে আর বাঁচানো গেল না।'
জাতীয় রেল শ্রমিক লীগের সৈয়দপুর রেলকারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোখছেদুল মমিন বলেন, 'নিহত মহিউদ্দিনের মৃত্যুতে জাতীয় রেল শ্রমিক লীগের সব নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি রেলওয়ে বিভাগের পক্ষে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সুবিধা দেয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
