ই উ এ স ও পে ন

অঘটন এড়িয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে নাদাল

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০১:৩৮
চলতি বছরের ফর্ম আর ইউএস ওপেনে গত বছরের পারফরম্যান্স ইঙ্গিত দিচ্ছিল বড় কিছুরই। অথচ কেই নিশিকরি হার মানলেন একেবারে শুরুতেই! এশিয়ান টেনিসের সেরা তারকাটি গত সোমবার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী রাউন্ডেই হেরে গেছেন অবাছাই ফরাসি বেনোয়েট পেইরের কাছে। তবে গত বছরের রানার্সআপ বিদায় নিলেও দাপুটে জয় পেয়েছেন শিরোপাধারী চ্যাম্পিয়ন মারিন চিলিচ। শীর্ষ বাছাই নোভাক জোকোভিচও পা রেখেছেন দ্বিতীয় রাউন্ডে।
 
অঘটন এড়িয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রেখেছেন ধুঁকতে থাকা রাফায়েল নাদাল। ক্রোয়েশিয়ার তরুণ বার্না করিচকে ৬-৩, ৬-২, ৪-৬, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন দুইবারের ইউএস ওপেন জয়ী নাদাল।
 
অন্যদিকে নারী এককে, এক পঞ্জিকা বর্ষে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের বিরল কৃতিত্বের পথে ঠিকভাবেই হাঁটতে শুরু করেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। মাত্র আধাঘন্টায় নারী এককের শীর্ষ তারকাটি উড়িয়ে দিয়েছেন তার রাশিয়ান প্রতিপক্ষকে। ৮৬তম র্যাঙ্কধারী রাশিয়ান ভিতালিয়া দিয়াচেনকোর বিপক্ষে ৬-০, ২-০ গেমে এগিয়ে ছিলেন টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু পায়ের ইনজুরির কারণে দিয়াচেনকো ম্যাচ থেকে অবসর নিলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হন সেরেনা। এর মাধ্যমে গ্র্যান্ড স্ল্যামে টানা ২৯তম জয় তুলে নিলেন এই মার্কিনি। অন্যদিকে, ঘরের মাঠের এই গ্র্যান্ড স্ল্যামে এটা তার টানা ২২তম জয়। 
 
সেই ১৯৯৯ সালে তরুণ বয়সে প্রথমবার ইউএস ওপেনের শিরোপা জয়ের পর থেকে সমর্থকদের যে ভালোবাসা পেয়ে আসছেন সেরেনা তা গতকালও অটুট ছিল। স্বদেশি শীর্ষ তারকাকে সমর্থন দিতে কোন কার্পণ্য ছিল না আর্থার এ্যাশের উপস্থিত দর্শকদের। সে কারণেই ম্যাচ শেষে সেরেনা বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘আমি তাদের এই সমর্থন অনুভব করি। আর তাই এখানে খেলতে আসার আনন্দটাও অন্যরকম। এখানে যেকোন মাইলফলক স্পর্শ করার চেষ্টা সবসময়ই থাকে। নিজের ঘরের মাঠ বলেই আমার প্রস্তুতিটাও দুর্দান্ত। ৯৯’ সাল থেকে শুরু হয়ে এখনো যা চলছে।’
 
দ্বিতীয় রাউন্ডে সেরেনার প্রতিপক্ষ ডাচ বাছাই কিকি বারটেনস। প্রথম রাউন্ডে বারটেনস ক্রোয়েশিয়ার মিরজানা লুসিস-বারোনিকে ৩-৬, ৬-৪, ৬-২ গেমে পরাজিত করেছেন। এদিকে প্রথম দিনেই মহিলাদের বিভাগে বেশ কয়েকজন শীর্ষ তারকার বিদায় ঘটেছে। সপ্তাম বাছাই আনা ইভানোভিচ স্লোভাকিয়ার ৫০তম র্যাঙ্কধারী ডোমিনিকা চিবুলকোভার কাছে ৬-৩, ৩-৬, ৬-৩ গেমে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন। ২০০৯ সালের পরে এটাই এই সার্বিয়ান তারকার ইউএস ওপেনে সবচেয়ে বাজে পারফরমেন্স। ইনজুরির কারণে তৃতীয় বাছাই মারিয়া শারাপোভার নাম প্রত্যাহারের পরে ইভানোভিচই ছিলেন সেরেনার শীর্ষ প্রতিপক্ষ। অপর ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের অষ্টম বাচাই ক্যারোলিনা প্লিসকোভা যুক্তরাষ্ট্রের আনা টাটিশভিলির কাছে ৬-২, ৬-১ গেমে, স্প্যানিশ দশম বাছাই কার্লা সুয়ারেজ নাভারো চেক প্রজাতন্ত্রের ডেনিসা আলেরটোভার কাছে ৬-১, ৭-৬ (৭/৫) গেমে ও ২১তম বাছাই সার্বিয়ার হেলেনা ইয়াঙ্কোভিচ ফ্রান্সের ওশেন ডোডিনের কাছে ২-৬, ৭-৫, ৬-৩ গেমে পরাজিত হয়ে প্রথম দিনেই বিদায় নিয়েছেন। তবে সেরেনার বোন ভেনাস দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন। প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩তম বাছাই ভেনাস পুয়ের্তো রিকোর মনিকা পিগের বিপক্ষে ৬-৪, ৬-৭ (৭/৯) ৬-৩ গেমের জয় পেয়েছেন।
 

অন্যদিকে পুরুষ বিভাগের শীর্ষ বাছাই জোকোভিচও সহজ জয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছালেও পেরে উঠেননি চতুর্থ বাছাই জাপানের নিশিকরি। যদিও দর্শকরা উপভোগ করেছেন পাঁচ সেটের দুর্দান্ত এক থ্রিলার। পেইরে কঠিন এক লড়াইয়ের পরে ৬-৪, ৩-৬, ৪-৬, ৭-৬ (৮/৬), ৬-৪ গেমে নিশিকরিকে পরাজিত করেন। অন্যদিকে জোকোভিচ এক ঘন্টা ১১ মিনিটের লড়াইয়ে ব্রাজিলের হুয়াও সোজার বিপক্ষে ৬-১, ৬-১, ৬-১ ব্যবধানে সরাসরি সেটের জয় তুলে নিয়েছেন। পারফরমেন্সের এই ধারা বজায় রাখতে পারলে যেকোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ের আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন সার্বিয়ান এই শীর্ষ তারকা। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মারিন সিলিচ অবশ্য কষ্টার্জিত জয় দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন। আর্জেন্টাইন বাছাই গুইডো পেলার বিপক্ষে এই ক্রোয়েশিয়ান প্রথম রাউন্ডে ৬-৩, ৭-৬ (৭/৩), ৭-৬ (৭/৩) গেমের জয় পেয়েছেন। ম্যাচ শেষে সিলিচ বলেন, ‘প্রথমবারের মত শিরোপা ধরে রাখার মিশনে খেলতে নেমে অবশ্যই আমি অনেক কিছুই শিখছি।’