প্রবাসে বাংলাদেশির ক্রীড়া সাফল্য

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০০:৫০

বিশ্বের কঠিনতম ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলোর একটি নেদারল্যান্ডের মাস্ট্রিখট লিম্বুর্গ আয়রনম্যান ট্রায়াথলন সম্পন্ন করার সাফল্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের সুমিত পাল। বিশ্বের ট্রায়াথলন প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যেও সবচেয়ে কঠিন এই ডাচ আসরটি।

 
এতে পেশায় প্রকৌশলী সুমিত পাল ৩.৮৬ কিলোমিটার সাঁতারে এক ঘণ্টা ২৯ মিনিট, ১৮২ কিলোমিটার সাইক্লিংয়ে সাত ঘণ্টা ২৯ মিনিট এবং ৪২.২ কিমি দৌড়াতে সময় নেন পাঁচ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট। সব মিলিয়ে তিনি কোর্সটি সম্পন্ন করেন টানা ১৪ ঘন্টা ৫১ মিনিট। এ জন্য তাকে কর্মস্থলে অফিস প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা কঠোর অনুশীলন করতে হয়েছে।
 
বাংলাদেশি হিসেবে তিনি প্রথম এই কঠিনতম চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। আয়রনম্যান ট্রায়াথলন শুরু করা ৯০০ প্রতিযোগীর মধ্যে ৬৬০তম স্থান অধিকার করেন তিনি। এ প্রতিযোগিতা শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ সময় বেধে দেয়া হয়েছিল ১৭ ঘন্টা।
 

বিশ্বের সব চেয়ে বিলাসবহুল গাড়ি তৈরির কোম্পানিগুলোর একটি বিএমডব্লিউতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত সুমিতের শৈশব কেটেছে সিলেটের ছাতকে। এরপর ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে বুয়েট থেকে তড়িত্ প্রকৌশলে ব্যাচেলর সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তীতে জার্মানিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি শেষ করেন ২০১৪ সালে। ছাত্রজীবনে পাঁচ হাজার মিটারের বেশি না দৌড়ালেও জার্মানিতে যাওয়ার পর তিনি বার্লিন, রোম, জেনেভা, ফ্রাঙ্কফুট ম্যারাথনে দৌড়িয়েছেন। তার মতে কোন কিছু জয় করার তীব্র বাসনা থাকলে যে কোন চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। এ সাফল্যের পর তিনি এখন নিজেকে একজন প্রকৌশলী হিসেবে নয় বরং আয়রনম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেই আনন্দবোধ করেন। আগামী বছরেও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আরো ভাল করতে চান তিনি।