মুক্তিপণের সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়েও মালয়েশিয়া থেকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো স্টুডেন্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যাওয়া ফতুল্লার তক্কারমাঠ এলাকার আমিনুল হকের পুত্র মুজিবুল হক। এর আগে মুজিবুল হককে মালয়েশিয়ায় অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় মালয়েশিয়া পুলিশ ঘটনার মূল হোতা জুয়েল ও চয়নসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহত মুজিবুল হকের লাশ শনাক্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতরা সবাই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তক্কারমাঠ এলাকার বাসিন্দা। গত শুক্রবার নিহত মুজিবুল হকের লাশ দেশে আনা হয়। এদিকে মুজিবুল হকের লাশ দেশে এনে জানাজা শেষে সেহাচর তক্কারমাঠ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহতের স্বজনরা জানায়, চলতি বছরের ২১ জুন স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া যান মুজিবুল। মালয়েশিয়ায় তার বন্ধুদের বাসায় গিয়ে ওঠেন। সেখান থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে যোগাযোগ রাখে মুজিবুল। পরবর্তীতে ৩ জুলাই রাতে মুজিবুলের মায়ের মোবাইলে একজন ফোন করে জানায়, মুজিবুল তাদের জিম্মায় আছে। মুজিবুলকে জীবিত পেতে চাইলে ৪ জুলাই ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। নতুবা তাকে মেরে ফেলা হবে। পরে শনিবার মুজিবুল হকের ফেসবুকে তার হাত-পা বাধা ছবি পোস্ট করে পরিবারের সবাইকে দেখতে বলা হয়। ৬ জুলাই জিম্মিকারীরা ফোন করে মুজিবুলের সঙ্গে তার ভাই জাহিদুল হকের কথা বলায়। তখন মুজিবুল জানায়, টাকা না দিলে অপহরণকারীরা তাকে মেরে ফেলবে। ৭ জুলাই অপহরণকারীদের দেয়া বাংলাদেশ এজেন্ট ঢাকা শ্যামপুর আয়রন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু টাকা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও পরে আর কোনো যোগাযোগ করেনি অপহরণকারীরা।
