উন্মোচিত হলো ছয় দলের মালিকানা

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০২:২২

টাইটেল স্পন্সর :  বিআরবি ক্যাবল

 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান  :      ২২ নভেম্বর, মিরপুর
 
প্রথম খেলা        :  ২৪ নভেম্বর
 
দল
 
ঢাকা               :  বেক্সিমকো গ্রুপ
 
চট্টগ্রাম            :  ডিবিবিএল গ্রুপ
 
বরিশাল           :  এক্সিওম টেকনোলজিস
 
সিলেট             :  আলিফ গ্রুপ
 
রংপুর              :  আই স্পোর্টস
 
কুমিল্লা             :  রয়্যাল স্পোর্টস লিমিটেড
 
 
 
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বিতীয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনাল হয়েছিলো।
 
এরপর থেকে একটার পর একটা বিতর্ক, জটিলতা এই টুর্নামেন্টটিকে এমন গ্রাস করেছিলো, একসময় মনে হচ্ছিলো, আর আলোর মুখ দেখবে না কখনো বিপিএল। কয়েক মাস ধরেই সেই জট কাটানোর প্রক্রিয়া চলছে। অবশেষে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ঘোষণা দিলো, আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে মাঠে গড়াচ্ছে দেশের একমাত্র ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসর। আর এর এক দিন আগে, ২২ নভেম্বর মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
 
গতকাল এইসব দিন তারিখ জানানোর পাশাপাশি গভর্নিং কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করলো গত কয়েক দিন ধরে গুঞ্জন আকারে বাতাসে ঘুরতে থাকা নতুন করে সাজানো ছয়টি দলের মালিকদের নামও। জানানো হলো এবারের বিপিএলের টাইটেল স্পন্সর থাকছে বিআরবি কেবলস। একই প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টেডিয়া রাইটস’ মানে, স্টেডিয়ামের ভেতরে যাবতীয় বিজ্ঞাপনের স্বত্বও কিনে নিয়েছে।
 
সংবাদ সম্মেলনে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সব সদস্যকে নিয়েই হাজির হয়েছিলেন চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা শুরুতেই বললেন, ‘ছয়টা ফ্র্যাঞ্চাইজি আমরা নির্বাচন করেছি। ঢাকা বেক্সিমকো গ্রুপ, চট্টগ্রাম ডিবিএল গ্রুপ, বরিশাল এক্সিওম টেকনোলজিস, সিলেট আলিফ গ্রুপ, রংপুর আই স্পোর্টস ও কুমিল্লা রয়্যাল স্পোর্টিং লিমিটেড।’
 
সূচনালগ্নেই তিনি এবারের বিপিএল শুরুর সম্পর্কেও পরিষ্কার করে দেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে ২২ নভেম্বর। প্রথম ম্যাচ দিবারাত্রির হবে, ২৪ নভেম্বর। বিপিএলের টাইটেল এবং ইন-স্টেডিয়া স্বত্বের জন্য সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল বিআরবি কেবলস ইন্ডাস্ট্রিজ। ওদেরকেই আমরা প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করেছি।’
 
এবার বিপিএলের খেলা হতে পারে দুটি ভেন্যুতে। যদিও এখন পর্যন্ত তিন ভেন্যুতে খেলা আয়োজনের চিন্তা করছে বিসিবি। সম্ভাব্য ভেন্যু হতে পারে ঢাকা ও চট্টগ্রাম।
 
ফ্র্যাঞ্চাইজি দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ডা. আই এইচ মল্লিক বলেন, ‘প্রথম আমরা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সব শর্ত পূরণ করে আগ্রহপত্র পেয়েছিলাম। দুটি ছিল পুরনো, তিনটি ছিল নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি। নতুনগুলো সবাই দল উল্লেখ করে আমাদের কাছে আবেদন করেছিল। যেমন বেক্সিমকো ঢাকা, ডিবিএল চট্টগ্রাম, এক্সিওম চেয়েছিল বরিশাল। আমরা তখন এক্সিওমকে মৌখিকভাবে কথা দেই বরিশালের ব্যাপারে। কারণ তখনও পর্যন্ত আলিফ গ্রুপ আমাদের টাকা শোধ করেনি। এরপর যখন আলিফ গ্রুপ টাকা শোধ করল, তারা বরিশালই চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তাদের বলেছি বরিশাল সম্ভব নয়। তারা তখন সিলেট বেছে নিয়েছে।’কুমিল্লাকে দল দেয়া প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানালেন, তারা আর বিভাগীয় নামে আটকে থাকছেন না। নামকরণ এখন থেকে সিটি করপোরেশন ভিত্তিক হবে। কারণ, তাদের ইচ্ছা আছে বিপিএলের দলসংখ্যা দশে নিয়ে যাওয়া, ‘কুমিল্লা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, তারা তো বিভাগ নয়। আমরা আর ডিভিশনে যাচ্ছি না, সিটি কর্পোরেশন বিবেচনা করছি। ভবিষ্যতে এটি ৮ দলের হবে, ১০ দলের হবে। সিটি কর্পোরেশন ২০টি হলেও দল আমাদের ১০টিই থাকবে। এখন আমরা চার বছরের জন্য দল দিচ্ছি। চার বছর পর আলোচনার মাধ্যমে রিনিউ হবে।’
 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তৃতীয় আসরে আইসিসির নয় বিসিবির দুর্নীতি দমন কমিশনই কাজ করবে। ফিক্সিংসহ যাবতীয় বিষয় বিসিবির আকসুই দেখভাল করবে।
 
এ ছাড়া টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবেন গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ও বিসিবি পরিচালক শেখ সোহেল। তিনি বললেন, অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করতে চান এবং নতুন শ্রুতিমধুর থিম সং নির্বাচন করতে চান। খেলোয়াড় তালিকা নিয়ে কাজ করছেন বিসিবির দুই পরিচালক আকরাম খান ও খালেদ মাহমুদ সুজন। সুজন বললেন, তারা দ্রুততম সময়ে খেলোয়াড় তালিকা ও ছয় দলের আইকন খেলোয়াড়ের নাম ঠিক করে ফেলবেন।
 

মিরপুরে এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস, শেখ সোহেল, লোকমান ভূঁইয়া, খালেদ মাহমুদ সুজন ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।