নড়াইলের লোহাগড়ায় লুটিয়া গ্রামে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ সালমাকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পিটিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ৭ জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। আহতকে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে স্বামী শাহজাহান বিদেশ যাওয়ার জন্য শাশুড়ি শেফালি বেগমের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে সালমা তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এই সুযোগে শাহজাহানের বড় ভাই আফজাল মোল্যা বাদি হয়ে সালমাসহ তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করার জন্য নড়াইল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ১৬ সেপ্টেম্বর শাহজাহান বাড়িতে এসেছে খবর পেয়ে ওই দিন সালমা ও তার মা শেফালী বেগম শ্বশুর বাড়ি যান। এ সময় সালমার ভাসুর লুটিয়া গ্রামের তোতা মোল্যার ছেলে আফজাল, সাজ্জাদ, খাজা, খায়ের, শাশুড়ি তহুরুন বেগম, ননদ আসমা বেগম ও সারমিন বেগম পরস্পর যোগসাজগে সালমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে সালমার গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার চেষ্টা করে। এ সময় তার মা শেফালী বেগম ঠেকাতে গেলে তাকেও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এ নির্যাতনের খবর পেয়ে তার ভগ্নিপতি সুজন শিকদার মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় সালমা বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামি করে লোহাগড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।'
