রাজশাহীতে পাউরুটি খাইয়ে সাত রাজমিস্ত্রীকে অজ্ঞান করে টাকা ও মোবাইল ফোন লুণ্ঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাদের ট্রাক থেকে ফেলে দেয়া হয়। অসুস্থদের মঙ্গলবার ভোরে নগরীর তালাইমারী এলাকা থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারা হলেন- রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান গ্রামের সোহেল রানা (৩০), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তিন ভাই আরিফ হোসেন (২৫), সোহেল রানা (১৮), মোহাম্মদ রাসেল (১৬) ও তাদের ফুপাতো ভাই সোহেল রানা (২০) এবং রংপুরের মিলন (২০) ও মনিরুজ্জামান (৪২)। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত আরিফ, মিলন, মনিরুজ্জামান ও রাজশাহীর সোহেল রানার জ্ঞান ফেরেনি। অন্যদের জ্ঞান ফিরেছে এবং তারা কথা বলতে পারছেন।
আরিফের বাবা ফিটু মাঝি বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে ভাগ্নে সোহেলের জ্ঞান ফেরে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে তিনি বাড়িতে খবর দেন।
তিনি আরো বলেন, সোমবার দুপুর একটায় ঐ সাত রাজমিস্ত্রী গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে একটি ট্রাকে ওঠেন। ট্রাকে চালক ছাড়াও আরো দুইজন লোক ছিলেন। সিরাজগঞ্জ পৌঁছানোর পর তারা রাজমিস্ত্রীদের পাউরুটি ও পানি খেতে দেন। সেগুলো খাওয়ায় পর তারা একের পর এক অচেতন হয়ে পড়েন। নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুণ্ঠনের পর ভোরে তাদের রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকায় ট্রাক থেকে ফেলে দেয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হরিয়ান গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী ববিতা বেগমের বলেন, অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করার সময় তাদের একজন সোহেলকে চিনতে পারেন। তিনিই ফোনে খবর দেন।
এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এএফএম রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, অসুস্থ রোগীদের শারিরীক অবস্থা কিছুটা ভল। তবে সবাই এখনো আশঙ্কামুক্ত নন।
প্রসঙ্গত, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজশাহী সিটি বাইপাস গরুর হাটে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ৩৫ গরু ব্যবসায়ী ও ট্রাক ড্রাইভার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরদিন রামেক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার শিবপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী জজ মিঞা (৩৪) মারা যান।
