শিমুলিয়ায় গাড়ির অপেক্ষায় ফেরি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১৭:৩৭
 
ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি থাকলেও বুধবার দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে যানবাহনের তেমন একটা চাপ ছিল না। শিমুলিয়ায় এখন গাড়ির অপেক্ষায় রয়েছে ফেরি। অন্যান্য বছর ঈদের এই সময়ে যানবাহনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকে ফেরির জন্য। কিন্তু এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। ফেরিগুলোই বরং গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে।
 
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক এসএম আশিকুজ্জামান জানান, দীর্ঘ ৩২ দিন ধরে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস ছিল প্রায় অচল। এই রুটে এসে অনেকেই পড়েছে ভোগান্তিতে। কিন্তু গত সোমবার এই সার্ভিস স্বাভাবিক হওয়ায় পাল্টে গেছে ঘাটের চিত্র। চারটি রো রো ফেরিসহ ১৬টি ফেরিই এখন চলছে। লৌহজং টর্নিং দিয়েই আসা যাওয়া করছে সব ফেরি। তাই দ্রুত পারাপার সম্ভব হচ্ছে। ঘাটে এখন কোন যান নেই। ফেরিগুলো ঘাটে নোঙর করে আছে গাড়ীর অপেক্ষায়। যখন কোন গাড়ি আসছে সাথে সাথেই তা ফেরিতে উঠে যাচ্ছে।
 
তিনি জানান, প্রাইভেট কারের সংখ্যাই ছিল বেশি। অল্প সময়ের মধ্যেই তা পারাপার করা হয়। তাছাড়া দূর পাল্লার অধিকাংশ যাত্রী দ্রুত বাড়িতে পৌঁছতে লোকাল বাসে করে শিমুলিয়ায় এসে সিবোট, ট্রলার ও লঞ্চে করে নদী পার হচ্ছেন। ওপার হতে বিকল্প যানবাহনে করে গন্তব্যে পৌছেঁছে। ফলে ফেরিতে চাপ কম। যাত্রীবাহী যানবাহনের সংখ্য কম থাকায় ১০ কি.মি. দূরে শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি নামক স্থানে আটকে রাখা পণ্যবাহি ট্রাকসহ সব ধরণের ট্রাকগুলো এখন পারাপার করা হচ্ছে।
 
এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ঘাট বন্দর কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, যাত্রীর তেমন চাপ নেই। অন্য বছরের এই দিনের তুলনায় লঞ্চগুলো ছেড়ে যাচ্ছিল কম সংখ্যক যাত্রী নিয়ে। সিবোটে যাত্রী কম। তবে কোন অবস্থাতেই লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সিবোট ছাড়তে দেয়া হচ্ছে না। তবে বৃহস্পতিবার এই নৌপথে যাত্রীর চাপ বাড়বে।
 
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, স্বাচ্ছন্দ্যে পারাপার এবং দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিমুলিয়ায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনা লাঘবে সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হেল্প ডেক্স, সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ মঞ্চসহ নিরাপত্তা এবং যাত্রী সেবায় ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব এবং সেচ্ছাসেবক কাজ করছে। অসুস্থ যাত্রীদের চিকিত্সার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।