চাঁদপুরের ৪০ গ্রাম, মুন্সীগঞ্জের নয় গ্রাম, বরিশালের বাবুগঞ্জের ২০ গ্রাম ও মাদারীপুরের ৫০ গ্রামে আজ বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সব গ্রামের মানুষ বহু বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উৎসব উদযাপন করে আসছেন।
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, আজ চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়। প্রায় এক শতাব্দী ধরে ওইসব গ্রামের বেশিরভাগ মুসলমান সৌদি আরবের সঙ্গে সংগতি রেখে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা হামিদিয়া সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু বকর জানান, একই মাদরাসার অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা আবু ইছহাক ইংরেজি ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন শুরু করেন। সাদ্রা দরবার শরীফের গদিনশীন পীর মাওলানা আবু যোফার আবদুল হাই জানান, বৃহস্পতিবার সাদ্রা হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের নয় গ্রামে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে বৃহম্পতিবার ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত হচ্ছে। গ্রামগুলো হচ্ছে- সদর উপজেলার আনন্দপুর, শিলই, নায়েবকান্দি, আধারা, মিজিকান্দি, কালিরচর, বাংলাবাজার, বাঘাইকান্দির ও কংসপুরা একাংশ।
গ্রামগুলোর জাহাগীর তরিকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে এই ঈদ উদযাপন করছে।
শিলই ঈদগাঁয়ে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে অন্য গ্রামের অনুসারীরাও অনুরূপ ঈদ জামাত আদায় করা হয়। এই ঈদ জামাতে প্রায় কয়েক শ’ মুসল্লী অংশ নিচ্ছে। নামাজ শেষে কোলাকুলি, ঘরে ঘরে বিশেষ খাবার তৈরী, নতুন পোশাক পরিধানসহ ঈদ আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। এই তরিকার ৭ গ্রামে প্রায় ৫ হাজার মানুষ এই ঈদ উদযাপন করছে।
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, আজ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর, মাধবপাশা, কেদারপুর, চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২০ গ্রামের মানুষ ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন।
চট্টগ্রামের চন্দ্রনাইস শাহসূফী দরবার শরীফ ও সাতকানিয়া মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারীরা বিশ্বের যেকোন জায়গায় প্রথম চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এই ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। দরবার শরীফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাবুগঞ্জ উপজেলার মো. জাহাঙ্গীর আলম সিকদার জানান, প্রায় দুইশ বছর আগে থেকে দরবার শরীফের মুরিদরা সৌদি আরবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হযরত সুরেশ্বরী (রাঃ)-এর মাদারীপুরের ৫০ গ্রামের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার চরকালিকাপুর গ্রামের মো. হাশেম মাস্টার জানান, সুরেশ্বর দায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ সুরেশ্বরী (রাঃ)-এর অনুসারীরা দেড়শ বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাদারীপুর সদর উপজেলার চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও কালকিনির আন্ডারচর খানকায় শরীফ মাঠে ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
