পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সরকারের একার পক্ষে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তির উন্নতি তথা তাদের আর্থিক অবস্থা ভাল না হবে। উন্নয়ন হচ্ছে একটি চলমান প্রক্রিয়া, আমাদের দেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে পূর্বে গৃহীত প্রকল্পের গুরুত্ব কমে যায় অথবা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে এ ধারা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী জনকল্যাণ উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, রাজনৈতিক হানাহানির কারণে কখনো কখনো অঞ্চল বিশেষ ইমেজ সংকটে পড়ে। উন্নয়নের স্বার্থে এই ধরনের নেতিবাচক ইমেজ থেকে মুক্ত হতে আগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। দেশের পরিবর্তনমুখিতার প্রতি দৃষ্টি রেখে বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়াতে পারলে এলাকার উন্নয়ন দ্রুততর হয়। দেশের মানুষ এখন অনেক শান্তিতে রয়েছেন। শান্তি থাকলে এলাকায় উন্নয়ন কাজ বেশি বেশি করে গ্রহণ করা যাবে এবং স্থানীয় নেতৃত্ব তুলনামূলক সত্ হওয়ায় তা সম্পন্ন করা সহজ হবে। এ জন্য নেতৃত্বকে আরও বেশি সক্রিয় ও উদ্যোগী হয়ে কাজ আদায়ে এগিয়ে আসতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, দেশের সকল খাতে উন্নয়ন দরকার। আমাদের উন্নয়ন চাহিদা অনেক বেশি এবং কাজের খাতও অজস বলে সরকার সকলের প্রত্যাশা অনুযায়ী বরাদ্দ দিতে পারে না সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে। এ জন্য স্থানীয়ভাবে সম্পদ সৃষ্টি করে ব্যক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক। এই সীমাবদ্ধতার কারণে জনগণ রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করে বলেন, নেতারা কথা দিয়ে কথা রাখেন না। এ অভিযোগ ঠিক নয়। ১৯৮৪ সাল থেকে আমি ভাণ্ডারিয়া-পিরোজপুর তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রচেষ্টার সাথে সম্পৃক্ত। এ সময়কালে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এ সময়ের নৌ-পথ নির্ভর পিরোজপুর অঞ্চল সারা দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে। এলাকার সমর্থন ও সম্মিলিত সহযোগিতার ফলে সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধাকে ভিত্তি করে মানুষের অর্থনৈতিক ভিত অনেক বেশি মজবুত করা গেছে। যার সুফল এ অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারে দৃশ্যমান। আমরা এ অর্জনের ক্ষেত্রে অতীতে যেভাবে সবার সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছি তা অব্যাহত থাকলে আগামীতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দেশের মধ্যে অগ্রসর নাগরিক হিসাবে পরিচিতি পাবে বলে আমার দৃঢ় আশাবাদ। এই অবস্থান সৃষ্টি করতে প্রয়োজন এলাকার মানুষের ঐক্য এবং শান্তিপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করা। আগের মত রাজনৈতিক ঝগড়া-ফ্যাসাদ, সংঘাত, গাছ কাটা, রাস্তা কাটা এই ধরনের তত্পরতা থেকে বিরত থাকতে হবে। সকলকে বুঝতে হবে মহল বিশেষের রাজনৈতিক নৈরাজ্যকর তত্পরতার কারণে সাধারণ মানুষের উপর অহেতুক নির্যাতন-অত্যাচার নেমে আসে। নিরীহ জনগণকে হয়রানি, দুর্ভোগ, দুর্দশা থেকে রক্ষার জন্য সকলকে শান্তিকামী, উন্নয়ন প্রত্যাশী, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারক-বাহক হিসাবে পরিচিত করে তুলতে হবে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুস সালেহীনের (শুভ তালুকদার) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জিয়ানগর উপজেলা জাতীয় পার্টির (জেপি) আহ্বায়ক ও পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান। এ সময় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর জেলার প্রান্তিক এ গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়েব সাইট এবং অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
দুপুরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী জিয়ানগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মত্স্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্পের আওতায় জিয়ানগর উপজেলায় জেলেদের মাঝে পরিচয়পত্র বিতরণ করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত মানুষের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। জিয়ানগরের ইউএনও মৃধা মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা বেগম, পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল কবির স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দুপুরে বন বিভাগের উদ্যোগে ভাণ্ডারিয়ার চরখালী চরে বাস্তবায়নাধীন বনায়ন কর্মসূচির কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশীদ মজুমদার মন্ত্রীকে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কাউখালী সংবাদদাতা রবিউল হাসান রবিন জানান, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কাউখালী উপজেলা জেপির নেতা-কর্মীদের সাথে সংগঠনের কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের সংগঠন খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ। অনেক বড় বড় দলে পদ-পদবি নিয়ে মারামারি হয়, খুন-খারাবি হয়। বড় দলের নেতা-কর্মীদের বিশৃঙ্খলার কারণে কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য দিতে পারেন না। এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি জেপি সমর্থনও করে না, প্রশ্রয়ও দেয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। কোনো কোনো নেতা-কর্মীর আচরণের কারণে তার এই শ্রম, আন্তরিকতা তথা দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ কখনো কখনো ম্লান হয়ে যায়, যা অনভিপ্রেত। তাই জেপির নেতা-কর্মীদের দল ও নেতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
উপজেলা জেপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা (জেপির) সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম তালুকদার, যুগ্ম সম্পাদক খান মোঃ বাচ্চু, শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, ইউপি সদস্য নেপাল চন্দ্র দে ও ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান জুয়েল। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ভাণ্ডারিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির রাজু, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা জেপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদ, উপজেলা যুব সংহতির সভাপতি জাকির হোসেন নসু, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিল্টন, জেপি নেতা শাহ আলম নসু, আব্দুল লতিফ খসরু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম উদ্দিন চুন্নু, ছাত্র সমাজের উপজেলা সভাপতি মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল প্রমুখ।
রাতে কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোঃ দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী এর আগে কাউখালী সদর ইউনিয়নের উদ্যোগে ‘মুজিব চত্বর সৌন্দর্য বর্ধন’ প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এ সময় কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, ইউএনও মোঃ শহীদুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিঠু, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ মিল্টন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।