চরফ্যাসনে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৫, ১৫:০৫
চরফ্যাশনে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে। হাট-বাজার এবং মাছ-ঘাটগুলোতে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বেচাকেনা হচ্ছে মা-ইলিশ। পাশাপাশি ভোলার দক্ষিণ আইচা থানার সাগরের বালুর চর উপকূলে কয়েকশ টন মা-ইলিশ বোঝাই করে ঘাটে ফেরার অপেক্ষায় আছে শতাধিক ফিশিং ট্রলার।   
 
 
চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেছেন, মা-ইলিশ শিকারে নিষিদ্ধ সময়ের দ্বাদশতম দিন পর্যন্ত চরফ্যাশনে ৪৪ জেলের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, ৫৭ জেলের ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। আটক করা হয়েছে ১৪টি ট্রলার। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার মিটার জাল। অর্থদণ্ডে পাওয়া বেশির ভাগই হলো শিশু জেলে।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চলের মেঘনা বেতুয়াঘাট এবং পশ্চিমাঞ্চলের তেতুলিয়ার ঘোষেরহাট ঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বেড়িভাঙ্গা, খাজুরগাছিয়া, সামরাজ, কচ্চপিয়া, বকসী, শুকনাখালী, ড্রামখালী, মনুরা, ডাকাতিয়া, পাতিলা, কুকরী, ঢালচরসহ দক্ষিণের সাগর মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত জলসীমায়  মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব চলছে। নিষিদ্ধ সময়ে মা-ইলিশ বেচা-বিক্রির জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঘাটেঘাটে গড়ে উঠেছে বিশেষ সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি হালি ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকা দামে মা-ইলিশ উঠে যাচ্ছে ক্রেতাদের হাতে। ঘাটগুলো থেকে বিশাল অংকের ‘চাঁদা’ নিয়ে একটি বিশেষ মহল প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে মা-ইলিশ শিকারের মহোৎসব মেতেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 
 
অভিযোগকারীরা জানান, চরফ্যাশনের বিশাল জলসীমায় মা-ইলিশের সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখানে দুই জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২টি মোবাইল টিম কর্তব্যরত আছে।
এছাড়াও ঘাটগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের ৮ জন কর্মকর্তাকে নিয়োজিত করা হলেও তা কেবলই কাগজে-কলমে অবস্থান করছে। দাপ্তরিক ব্যস্ততার অজুহাতে এসব কর্মকর্তারা মা-ইলিশ রক্ষার দিকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না বলে স্বীকার করেন উপজেলা মৎস্য সম্পদক কর্মকর্তা। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ২টি টিম মেঘনা ও তেতুলিয়ায় জোয়ার-ভাটায় টহল দিলেও দক্ষিণ আইচা থানা এলাকায় বিশাল জলসীমার তুলনায় তা খুবই কম। এছাড়া সাগর মোহনায় শতাধিক ফিশিং ট্রলার ইলিশ ভর্তি করে দক্ষিণ আইচা থানার ঢালচরের দক্ষিণে বালুর চর সংলগ্ন সাগরকূলে অলস সময় কাটাচ্ছে। নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকশ টন মা-ইলিশ নিয়ে ট্রলারগুলো ঘাটে পৌঁছবে বলে জেলেরা জানিয়েছেন। 
 
এই প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেছেন,  ট্রলারগুলো ইলিশ বোঝাই করে সাগরের বালুর চর এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে খবর পেয়েছেন তারা ।  এছাড়া মেঘনা-তেতুলিয়াসহ সাগর মোহনা পর্যন্ত চরফ্যাশন, শশীভূষণ ও দক্ষিণ আইচা থানাধীণ প্রায় ৭শ’ বর্গ কি.মি. জলসীমা রয়েছে। বিশাল এই সীমানায় মাত্র ২টি টিম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় যানবাহনের অভাবে গভীর সমুদ্রের জেলেদের মাছধরা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।