জেএমবির বিস্ফোরক প্রধান ‘গ্রেনেড বিস্ফোরণে’ নিহত

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৫, ২৩:২৫

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির বিস্ফোরক শাখার প্রধান তৌফিকুল ইসলাম জাবেদ ওরফে রানা গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে। সোমবার শেষ রাতে নগরীর বায়েজিদ থানার কুয়াইশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের জন্য জাবেদকে নিয়ে নগরীর বায়েজিদ থানার কুয়াইশ এলাকায় গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা জাবেদের পলাতক সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জাবেদসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে নেয়ার পর ভোর সোয়া ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক জাবেদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশ সদস্যদের চমেক হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হয়।

 
এর আগে গত সোমবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জাবেদসহ জেএমবির পাঁচ সদস্যকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, গ্রেনেড, বিপুল পরিমাণ গুলি, গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জামাদি, ছুরি, বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই, মোবাইল, মটরসাইকেল, বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়। আটক অপর চারজন হলো- জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সেকেন্ড ইন কমান্ড বুলবুল আহমেদ সরকার ওরফে আপেল ওরফে ফুয়াদ, মো. সুজন বাবু, মাহবুবুর রহমান খোকন ও মো. শাহজাহান কাজল। এদের মধ্যে সুজন বাবু নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকায় কথিত পীর ন্যাংটা ফকির ও তার খাদেমের খুনি বলে পুলিশ জানায়। গতকাল বিকালে সুজনকে নিয়ে কথিত মাজারে গিয়ে জোড়াখুনের কাজে ব্যবহূত রক্তমাখা দা ও কাপড় উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
 
সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. বাবুল আক্তার ইত্তেফাককে জানান, আটক পাঁচ দুর্বৃত্তকে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা নিজেদেরকে জেএমবি’র সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। এর মধ্যে জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিস্ফোরক শাখার প্রধান জাবেদ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকায় কথিত পীর ও তার খাদেমের জোড়াখুনের ঘটনায় জেএমবি জড়িত ছিল। ন্যাংটা ফকির ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। তাকে হত্যা করা হলে বেহেশতে যাওয়া যাবে, এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মো. সুজন বাবু নামে জেএমবির এক সদস্য এই জোড়াখুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
 
অন্যদিকে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদের আগের দিন নগরীর সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট এলাকায় শাহ করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের পেছনেও জেএমবি জড়িত ছিল। মূলত সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতেই জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড ফুয়াদ এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ছিনতাই কাজে মোট আটজন অংশ নেয়। এরা হলো জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ডার ফারদিন, পিয়াস, সজীব, হাবিব, কালাইয়া মটু, রবিউল, রফিক ও সেকেন্ড ইন কমান্ড ফুয়াদ। এর মধ্যে চারজন রেসকিউ টিম হিসাবে কাজ করে। টাকা ছিনতাইয়ের সময় তারা গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। গ্রেনেডের আঘাতে জেএমবি সদস্য রবিউল ও রফিক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া শাহ করপোরেশনের ম্যানেজার সত্য গোপাল চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান।
 
এদিকে গ্রেফতার হওয়া জেএমবির ৫ সদস্যকে ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। পুলিশ এদেরকে জেএমবি সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করলেও আটক ব্যক্তিদের পোশাক-পরিচ্ছদ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদেরকে জেএমবির ছদ্মবেশে পেশাদার অপরাধী বলেই কেউ কেউ ধারণা করছেন। জানা গেছে, পুলিশের হাতে আটক মো. শাহজাহান কাজল শাহ করপোরেশনে চাকরি করতো। চাকরির সূত্রে কাজলই টাকার বিষয়ে ছিনতাইকারীদের তথ্য প্রদান করেছিল। ছিনতাইয়ের ওই ঘটনায় কাজল ছাড়াও তাই আপন দুই ভাই মাহবুব ও রফিক এবং তাদের আপন ভাগ্নি জামাই ফুয়াদ অংশ নেয়। অর্থাত্ একই পরিবারের চারজন চাঞ্চল্যকর এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় অংশ নেয়। এর মধ্যে রফিক মারা গেলে তাকে নিজের ভাই বলে স্বীকারও করেনি কাজল ও মাহবুব। রফিককে পরে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করে আনজুমান মুফিদুল ইসলাম।
 
সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. বাবুল আক্তার ইত্তেফাককে জানান, আটক ব্যক্তিরা জেএমবির সদস্য। চট্টগ্রামে তাদের আরো ১২ থেকে ১৪ জন সদস্য রয়েছে। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করা। চট্টগ্রাম বিভাগে জেএমবির নেতৃত্বে রয়েছে ফারদীন। জেএমবি সদস্যদের পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও অভিনব। তারা একজন আরেকজনকে একবারের বেশি দেখার সুযোগ পায় না। কমান্ডারের কাছ থেকে পাওয়া মোবাইল মেসেজ অনুযায়ী তারা কাজ করে। মেসেজটি আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল থেকে ডিলিট হয়ে যায়।
 
এদিকে পাঁচ জেএমবি সদস্য আটকের ঘটনায় গতকাল সিএমপি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার মো. শহীদুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে যাতে জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।