১২ দেশের সঙ্গে মার্কিন চুক্তি

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৫, ২৩:৩২

রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ১২টি দেশের ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বা টিপিপি চুক্তি করার ফলে বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। যে ১২টি দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র টিপিপি চুক্তি করেছে সেগুলোর মধ্যে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী ভিয়েতনামও রয়েছে। সামপ্রতিককালে পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের উত্থান চিন্তায় ফেলে দিয়েছে রপ্তানিকারকদের।

 
ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ বা ইউএসটিআর তথ্যমতে, যে ১২টি দেশ টিপিপিতে স্বাক্ষর করেছে সেগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান, ব্রুনাই, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। বিশ্ব অর্থনীতির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এ দেশগুলো। চুক্তির ফলে দেশগুলো পরস্পরের বাজারে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানি করবে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক খবর হলো টিপিপির সাথে ভিয়েতনামের একীভূত হওয়া। তবে এ চুক্তি শুধু বাংলাদেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, চীনও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীন দীর্ঘদিন ধরে চালকের আসনে রয়েছে।
 
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে ভিয়েতনামের রপ্তানিকারকরা ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ শুল্ক দেন। আর বাংলাদেশ এক্ষেত্রে দেয় প্রায় ১৭ শতাংশ। বিপুল শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বরাবর কমছে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে পাঁচ ভাগ। শুল্ক কম থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়িয়েছে ভিয়েতনাম। গত বছর এ খাতে তাদের রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশ।
 
দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চালকের আসনে থাকা চীন ও বাংলাদেশকে সরিয়ে দিতে এরই মধ্যে আগামী দশ বছরের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ভিয়েতনামের আমেরিকান চেম্বার। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি দ্বিগুণ করার কথা বলা হয়েছে ওই কর্মপরিকল্পনায়। আর বাংলাদেশ এবং চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যে পরিমাণ পোশাক রপ্তানি করে ২০২৫ সালেও একই থাকবে রপ্তানির পরিমাণ।
 
রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এমনিতেই নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করছে। বিশেষ করে তাজরিনের অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসের পর ক্রেতারা বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের নানা চাপ দিচ্ছে। টিপিপি চুক্তি হবার ফলে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমবে।
 

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি এবিএম সামছুদ্দিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এমনিতেই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি নেতিবাচক ধারায় আছে। টিপিপি চুক্তি চাপ আরো বাড়াবে। তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে আমরা প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবো। পরিস্থিতির উন্নয়নে তিনি বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা আদায়ে সরকারকে আরো তত্পর হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।