পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার হার কমেছে

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৫, ০৯:২৪
 
পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) ৬৬৪ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭১৩ কোটি ৭ লাখ ডলার। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার ৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে ৬৯৪ কোটি ২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হওয়ায় নিষ্পত্তি বেড়েছে ৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাদ্য উত্পাদনের পরিমাণ বেড়েছে। এতে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেল আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার অনেক কমে গেছে। বিগত দুই বছরে আমদানিতে ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পায়। অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন ও বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় কয়েক বছর যাবত শিল্পের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ধস নেমেছিল। তবে চলতি অর্থবছরে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়লেও এর অধিকাংশ এসেছে বিদু্যুত্ খাতের জন্য।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-আগস্ট ২০১৫ সময়ে খাদ্যপণ্যের মধ্যে চাল ও গম আমদানিতে ২১ কোটি ১২ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা কমেছে ৩৫ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ১৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। যদিও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি বেড়েছিল ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ সময়ে পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয় ৪০ কোটি ১১ লাখ ডলার, অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এতে জ্বালানি তেল আমদানিতে ঋণপত্র খোলা কমেছে ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমেছে ৪৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
 
আলোচ্য সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপ খোলা হয়েছে ৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ছিল ৫১ কোটি ৬ লাখ ডলার। সে হিসেবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা বেড়েছে ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আর এ সময়ে ৬২ কোটি ২১ লাখ ডলারের যন্ত্রপাতি আমদানি হওয়ায় নিষ্পত্তি বেড়েছে ৩০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এদিকে একক মাস হিসেবে আগস্টে ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার উভয়ই বেড়েছে।