সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলতেই পাবনার ঈশ্বরদীতে ফেইথ বাইবেল চার্চের যাজক লুক সরকারকে গলা কেটে হত্যা চেষ্টা করে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি সদস্যরা। আঞ্চলিক কমান্ডারের নির্দেশে আব্দুর রাকিব রাব্বী, রাকিবুল ইসলাম তৌহিদ ও শাকিল আহমেদ নামে তিন জন এই অপারেশন পরিচালনা করে।
মিশনে অংশ নেয়া রাকিব রাব্বীসহ জেএমবির ৫ সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। রাকিব গতকাল সোমবার বিকালে পাবনার মুখ্য বিচারিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাচেষ্টার এসব তথ্য জানিয়েছে।
নির্দেশদাতা জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার রাকিবুল ইসলাম এখনও অধরা। তাকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে গ্রেফতার করা গেলেই এই হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যাবে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি বিমান কুমার দাস। তিনি বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে জানা গেলেও আসল পরিকল্পনাকারী ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত হয়েছে। আমরা আশা করছি অন্যরাও শিগগিরই পুলিশের হাতে ধরা পড়বে।
গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির জানান, গ্রেফতারকৃত রাকিব রাব্বী স্বীকার করেছে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলার জন্য সংগঠনের নির্দেশে এ কাজ করা হয়েছে। দলের নির্দেশ ছিল কোনো বিদেশি নাগরিক অথবা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কাউকে হত্যা করতে হবে। দলের এ নির্দেশেই তারা ধর্মযাজক লুক সরকারকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, পরিকল্পনানুযায়ী তারা গত ৫ অক্টোবর সকালে লুক সরকারের ঈশ্বরদীর ভাড়া বাসায় ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশে গলায় ধারালো ছুরি চালায়। এ সময় লুক সরকারের চিত্কারে তার স্ত্রী ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখা ও পাবনা জেলা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে যৌথ অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে রাকিব রাব্বী ও জিয়াউর রহমান নামে দুই জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঢাকা, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শরিফুল ইসলাম তুলিব, আব্দুল আলিম ও আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তারা এই হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করে। তারা আরো জানায়, দেশে জেএমবির সক্রিয় কার্যক্রম রয়েছে। পাবনাতেও তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কারাগারে থাকা সিনিয়র নেতারা তাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর সকালে ঈশ্বরদীর ‘ফেইথ বাইবেল চার্চ অব গড’ এর ফাদার লুক সরকার নিজের ভাড়া বাড়িতে হামলার শিকার হন। তিন যুবক ধর্মের বাণী শোনার নাম করে বাসায় এসে মুখ চেপে ধরে তার গলায় ছুরি চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় লুক সরকার একজনের হাতে কামড় দিয়ে চিত্কার করে উঠলে তার স্ত্রী পদ্মা সরকার ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
