মুরাদনগর থানার এসআইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৫, ১৮:৩৭
কুমিল্লার মুরাদনগর থানার এসআই আনোয়ার হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে জেলার আমলি আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত জেলার গোয়েন্দা সংস্থাকে (সিআইডি) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেছে। বাকি আসামিরা হলেন, উপজেলার বড়ুইয়াকুড়ি গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিন ও মো. আলাউদ্দিন।
 
মঙ্গরবার থানাধীন বড়ুইয়াকুড়ি গ্রামের আলাউদ্দিন (আমিন) বাদী হয়ে ওই আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরীর আদালতে মামলাটি করেন।
 
মামলার বাদীর অভিযোগ, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামে বাদীর ভাগিনা শাহিন ও ওয়াসিমের সঙ্গে মো. গিয়াস উদ্দিন ও মো. আলাউদ্দিনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত বাদীর দুই ভাগিনাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। ওইদিন রাত ১১টার দিকে এসআই আনোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে বিবাদী গিয়াস উদ্দিনসহ সন্ত্রাসীরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দুইজনের উপর আবারো হামলা চালায়। এ সময় এসআই আনোয়ার হামলাকারীদের আটক না করে চিকিৎসাধীন ওই দুইজনকে আটক করে। পরদিন গিয়াস উদ্দিনের মাধ্যমে একটি অভিযোগ দাঁড় করিয়ে তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে ওই দুইজনকে গ্রেফতার দেখানো হয় ও তাদের কোর্টে পাঠানো হয়।
 
পরদিন বাদীর ভাগিনা আব্দুল মমিন বাদী হয়ে গিয়াস উদ্দিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এ মামলার আসামি গিয়াস উদ্দিনকে থানায় পেয়েও এসআই আনোয়ার তাকে গ্রেফতার না করে পালাতে সহায়তা করে। ঘটনাটি কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ হলে এসআই আনোয়ার তাতে ক্ষিপ্ত হন। এরই রেশে গত শনিবার গিয়াস উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন ডাকাতকে সঙ্গে নিয়ে এসআই আনোয়ার হোসেন কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে বাদীকে হয়রানি করেন। এ সময় বাদীর মা ও বোনকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। অন্যথায় তাকে খুন ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলা জড়িয়ে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে গাছে ঝুলিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
 
হুমকিতে ভীত হয়ে মঙ্গলবার বাদী ওই তিনজনের বিরুদ্ধে জেলার আমলি আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে বিকেলে জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়।