গাবতলীতে পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, জনতা বিক্ষুব্ধ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৫, ১৯:০৮
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় পুলিশের বিরুদ্ধে মোখলেছার রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশকে বিক্ষুব্ধ জনতা আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখে। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মোখলেছার উপজেলার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের ছেলে।
 
স্থানীয়রা জানান, জমি থেকে বাঁশ কাটার দায়ে ছোট ভাই আতিয়ার রহমান বড় ভাই মোখলেছার রহমানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার ছয় মাইলনামক স্থানে মোখলেছার রহমানকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে মোটরসাইকেলে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় মোখলেছার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে থানার এএসআই আব্দুস সবুর তার চুল ধরে মারপিট করতে থাকেন। একপর্যায় মোখলেছার ধস্তাধস্তি করলে ওই পুলিশ সদস্য তাকে লাথি দেয়। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মোখলেছার মারা যান।
 
ঘটনার পর গ্রামের লোকজন দুই পুলিশ সদস্যকে আটকে রাখে। গাবতলী থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে লাশ এবং আটকে রাখা দুই পুলিশ সদস্যকে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে জনগণ বাধা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ পুলিশ দলকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল এবং গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে জনতা শান্ত হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়। এবং নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
 
গাবতলী মডেল থানার ওসি রিয়াজ উদ্দিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।