বাগেরহাটে ‘সুন্দরবন রক্ষা অভিযাত্রা’

পরিবেশ বান্ধব জাতীয় নীতিমালা প্রনয়ণের দাবি সিপিবি-বাসদের

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৫, ১৬:২০
 
ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবন রক্ষায় টেকসই, পরিবেশ বান্ধব জাতীয় নীতিমালা প্রনয়ণ করে তার সঠিক বাস্তবায়ন ও এই বনের পাশে রামপাল ও ওরিয়ন গ্রুপের দুটি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদুৎকেন্দ্র নির্মান অবিলম্বে বন্ধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সিপিবি ও বাসদ নেতৃবৃন্দ। শনিবার দুপুরে বাগেরহাট পুরাতন কোর্ট চত্তরে সিপিবি ও বাসদের ঢাকা- বাগেরহাট ‘সুন্দরবন রক্ষা অভিযাত্রা’ কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশে দল দুটির কেন্দ্রিয় নেতারা এই দাবি জানান।
 
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তবে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি- সিপিবির সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই, তবে তা সুন্দরবনের কাছে নয়। সুন্দরবনের কাছে দুটি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদুৎ কেন্দ্র নির্মান করা হলে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ এই বনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। প্রকৃতির বর্ম এই বন ধ্বংস হলে কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও বাসস্থান হারিয়ে উদ্বাস্তে পরিনত হবে। লাভ হবে এনটিসি কোম্পানিসহ এ দেশের লুটেরাদের।
 
বাংলাদেশের  সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারন সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান তার বক্তবে বলেন, সরকার লুটেরা ও বেনিয়াদের সুবিধা দিতে সুন্দরবন ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। সরকার পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে এক দিকে সুন্দরবন ধ্বংসকারী দুটি কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদুৎকেন্দ্র নির্মানের অনুমতি দিচ্ছে। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কার গ্রহন করছেন। যা সম্পূর্ন স্ব-বিরোধী। পরিবেশ বিপন্ন না করে দেশে অনেক বিদুৎ কেন্দ্র নির্মান করা যাবে, হাজার-হাজার কোটি টাকা খরচ করেও দেশে আর একটি সুন্দরবন সৃষ্টি করা কখনোই সম্ভব হবে না।
 
বাগেরহাট জেলা সিপিবির প্রবীন নেতা কাজী সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রিয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, লক্ষ্মী চত্রুবর্ত্তি, জলি তালুকদার, ডা. মনোষ দাস, এস এ রশীদ, হামিদা খাতুন, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, ফররুখ হাসান জুয়েল, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, নিখিল চন্দ্র দাস, জনারধন দত্ত নান্টু, প্রকৌশলী শম্পা বসু প্রমুখ।