রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ শাখার পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় রাঙ্গামাটি কলেজের আশপাশের এলাকায় চারটি দোকানে অগ্নিসংযোগ-ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এবং দুইটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কলেজসহ আশেপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাঙ্গামাটি কলেজে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর সাপ্তাহিক কর্মসূচির দিন নির্ধারিত ছিল। কলেজ ক্যাম্পাসে দুপুরে ছাত্রলীগ একটি মিছিল বের করে। ছাত্রলীগের ওই মিছিলে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, পাহাড়ি কিছু শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নিলে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) নেতা-কর্মীরা ওই শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায় ও মারধর করে। এ ঘটনায় সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে পিসিপি নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতির অভিযোগ, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রত্যাখানের দাবি করায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।
থানা পুলিশ জানায়, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে। এ সময় তারা দুই দিকে অবস্থান নিয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
জানা গেছে, দেড় ঘণ্টাব্যাপী কলেজ গেট কল্যাণপুর ও টিটিসি এলাকায় থেমে থেমে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আহতদের উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর সিএমএইচ ও রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ ও স্থানীয়রা।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন, পুলিশ সুপারসহ সামরিক বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তারা রাঙ্গামাটি কলেজে ছুটে যান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন শৃঙ্ক্ষলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। এবং এলাকাবাসীকে কোনো গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানান।
