বগুড়ায় হত্যার দায়ে একজনের ফাঁসি, ৪ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৫, ১৯:০৮
বগুড়ায়  জবাই করে হত্যার দায়ে একজনের ফাঁসি এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বেলাল হোসেন বিলু জেলা শহরের ফুলবাড়ি সরকারপাড়ার গফুর আলীর ছেলে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, বেলাল হোসেন বিলুর স্ত্রী নাসিমা বেগম, তার দুই ছেলে নাদিম এবং আজিম ও প্রতিবেশী নুর ইসলামের ছেলে রায়হান মিয়া।
 
সোমবার বেলা তিনটায় জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১’র বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে নাসিমা বেগম ও রায়হান মিয়া পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারের দিন থেকে তাদের সাজা কার্যকর হবে বলে  রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের শিববাটি এলাকার মৃত বাহার আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম ২০০৬ সালের ২৭ জুলাই ব্যবসায়িক কাজে শহরের কালিতলা হাটে যাবার পর নিখোঁজ হন।  দুদিন পর ২৯ জুলাই সাইদুলের ছোট ভাই শাহিনুর ইসলাম এ ব্যাপারে  সাধারন ডায়েরি করেন। এ খবর জানতে পেরে দন্ডপ্রাপ্ত বিলু তার বাড়িতে তালাবদ্ধ করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে সাইদুলের পরিবার সন্দেহ প্রকাশ করে ৩০ জুলাই বিলুসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন। পরে ওই বছরের ১ আগস্ট সকালে চুপিসারে বিলুর স্ত্রী নাসিমা বেগম বাড়িতে এসে পুতে রাখা বস্তাবন্দী লাশ উঠিয়ে বাড়ির পার্শ্বের একটি ডোবায়  কচুরিপানা দিয়ে লুকানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশীরা টের পেয়ে গেলে নাসিমা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করলে সাইদুলের পরিবার তার লাশ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় পুলিশ বিলু ও তার দুই ছেলেকে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে  সাইদুলকে ২৭ জুলাই কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ উঠানে গর্ত করে পুতিয়ে রাখা হয় বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দীতে একমাস পর লাশ গর্ত থেকে উঠিয়ে ডোবায় লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় বলে স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র   দাখিল করে।
 
বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি নাসিমুল করিম হলি এবং আসামি পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান।